পিতার আদর-ভালোবাসা বঞ্চিত ২৭ বছর বয়সী রাজিব মুন্সি ছিলেন উদার মনের মানুষ। বিবাহ বিচ্ছেদের পর মা কোহিনুর আক্তার পাঁচ বছর বয়সী একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়ি জেলার বরুড়া উপজেলার খোশবাস গ্রামে গিয়ে বসবাস শুরু করেন। রাজিব মামার বাড়িতেই বড় হয়। রাজিব কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার ঢাকারগাঁও গ্রামের মো. ইউনুস মুন্সির ছেলে। রবিবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজ শেষে মায়ের সঙ্গে তার কথা হয়। এরপর রাত ১টায় খবর আসে মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় রাজিব মারা গেছেন। তার মৃত্যুর খবরে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া।
পিতৃস্নেহ বঞ্চিত রাজিব চলে গেলেন ঋণ রেখে
রাজিবের মামাতো ভাই জাহিদ হোসেন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমি ২৬ দিন হলো মালয়েশিয়া থেকে এসেছি। ১০ মাস আগে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ঋণ করে বহু কষ্টের বিনিময়ে সে মালয়েশিয়া গেছে। ফুপু ছেলের দিয়ে তাকিয়ে আর বিয়ে করেননি। তার বাবা কখনও খোঁজ-খবরও নেননি। ২২ বছর ধরে ফুপুর কষ্ট সহ্য করতে না পেরে ধারদেনা করে ভাইটিকে মালয়েশিয়া নিয়েছি। তারপর আমি বাড়িতে এসেছি। এই ঋণ কীভাবে পরিশোধ করবো জানি না।
ঋণ করে মালয়েশিয়া যান মহিন
অন্যদিকে মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আরেক প্রবাসী মোহাম্মদ মহিন উদ্দিন। তিনি কুমিল্লার লালমাই উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে। বাহরাইন থেকে চলে আসার পর মহিন উদ্দিন ৭ মাস আগে মালয়েশিয়া যান। রবিবার রাত ১০ দিকে স্ত্রী, মা-বাবা এবং এক বছরের সন্তানের সঙ্গে কথা শেষ করে কাজে রওনা দেন মহিন। চাচা জামাল উদ্দিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তার বাবা তাজুল ইসলাম কৃষিকাজ করে পরিবার চালান। দুই ভাই দুই বোনের পরিবারে দ্বিতীয় সন্তান মহিন। এক বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে তার। বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ করে মালয়েশিয়া যান মহিন। রবিবার রাতে খবর আসে মহিন মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তারপর থেকে তার পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া।
উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ার সেপাং শহরে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে পাঁচজন বাংলাদেশিসহ ১১ জন শ্রমিক নিহত হন। তাদের মধ্যে দুইজন কুমিল্লার। তারা হলেন জেলার লালমাই উপজেলার দুর্লভবপুর গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে মহিন (৩৭) ও দাউদকান্দি উপজেলার ঢাকারগাঁও গ্রামের মো. ইউনুস মুন্সির ছেলে মো. রাজিব মুন্সি (২৭)।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় বাস দুর্ঘটনায় নিহতদের ৫ জন বাংলাদেশি