প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন মির্জা ফখরুলের ভাই

বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফয়সল আমীন (ছবি– প্রতিনিধি)

গত তিন বছর ঠাকুরগাঁওয়ে কাঙ্খিত উন্নয়ন করতে পারেননি জানিয়ে এর জন্য ক্ষমা চেয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই ও ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র মির্জা ফয়সল আমীন। একইসঙ্গে বর্তমানে পৌরসভায় উন্নয়ন কাজ শুরু করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৮ এপ্রিল) ঠাকুরগাঁও শহরের স্বর্ণকার পট্টি থেকে মির্জা পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত পৌনে দুই কিলোমিটার রাস্তার পুনঃপাকাকরণ কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মির্জা ফয়সল আমীন এসব কথা বলেন।

মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, ‘পৌরবাসীর ভোটের মাধ্যমে তিন বছর আগে পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। কিন্তু গত ৩ বছরে পৌরবাসীর জন্য কোনও উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারিনি। পৌরসভার উন্নয়নের জন্য ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেনের সঙ্গে ঢাকায় তার বাসায় দেখা করেছি। উনার কাছ থেকে ডিও লেটার নিয়েছি; কাজের জন্য তদবির করেছি। রমেশ চন্দ্র সেন নিজেই এ বিষয়ে বহুবার সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য, আমি বিরোধী দলের মেয়র হিসেবে গত ৩ বছরে কোনও উন্নয়ন কাজ করতে পারিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসার আগে আমরা রমেশ চন্দ্র সেন ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুহা. সাদেক কুরাইশীর কাছে গিয়েছিলাম এবং তাদের বলেছি, পৌরসভার কিছু উন্নয়নের কাজ রয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ঠাকুরগাঁওয়ে আসেন, তখন আরও অনেক দাবির সঙ্গে পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো তুলে ধরা হয়েছিল। আমি ধন্যবাদ জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। তিনি তার বক্তব্যের সময় ঘোষণা দিয়েছিলেন, ঠাকুরগাঁও পৌরসভার দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পৌরসভার স্বর্ণকার পট্টি থেকে মির্জা পাম্প পর্যন্ত পৌনে দুই কিলোমিটার রাস্তা পুনঃপাকাকরণে বরাদ্দ আসে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।’

তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আমাদের সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেনের কাছে আমরা যতবার গিয়েছি, উনি বলেছেন, করে দেবো। কিন্তু কোনও এক অদৃশ্য কারণে সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। যে কাজ আজকে এখানে উদ্বোধন হয়েছে এ কাজে রমেশ চন্দ্র সেনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ছিল এবং সেইসঙ্গে ছিল আমাদের সম্মিলিত প্রয়াস। এই প্রয়াসে আজ কিছু টাকা এই প্রকল্পের আওতায় আমরা পেয়েছি; যার মধ্য সবচেয়ে জরুরি কিছু রাস্তাঘাটের কাজে আমরা হাত দিয়েছি।’

ঠাকুরগাঁও পৌরসভার উন্নয়নের কাজ দৃশ্যমান হয়েছে মন্তব্য করে ফয়সল আমীন বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও পৌরসভার উন্নয়ন শুরু হয়েছে। এই উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে –এই প্রত্যাশা আমি আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেনের কাছে করবো। এখানে জনমত বিষয় নয়, এখানে জনগণ সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।’

তিনি বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল ও পীরগঞ্জ পৌরসভা রয়েছে, সেগুলোতে অসংখ্য কাজ হচ্ছে। বিশেষ করে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা পুরো জেলার হেড কোয়ার্টার। এই পৌরসভার যদি রাস্তাঘাটের করুণ অবস্থা হয়, তাহলে উন্নয়নের কথা বলে আমরা কিন্তু কেউ রেহাই পাবো না। ঠাকুরগাঁও পৌরসভার রাস্তাগুলোর উন্নয়ন করতে হবে।’

ফয়সল আমীন বলেন, ‘আজকে আমি মেয়র আছি; আগামীতে নতুন মেয়র আসবে। কিন্তু রাস্তাঘাট, এলাকার জনগণ থেকে যাবে। এখানে দল বড় কথা নয়, এখানে উন্নয়নটা, এলাকার লোকের স্বার্থটাই সবচেয়ে বড় জিনিস।’

সড়ক পুনঃনির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন। পরে আলোচনা সভায় পৌরমেয়র মির্জা ফয়সল আমীনের বক্তব্যের উত্তরে প্রধান অতিথি রমেশ চন্দ্র সেন বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও পৌরসভা মডেল পৌরসভা হবে, সদর উপজেলা মডেল উপজেলা হবে। এজন্য সব ধরনের উন্নয়ন কাজ করা হবে।’

অনুষ্ঠানে অন্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন– অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিনুল ইসলাম, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুহা. সাদেক কুরাইশী, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব সভাপতি মনসুর আলী, জেলা যুবলীগ সভাপতি আব্দুল মজিদ আপেল প্রমুখ।