শার্শায় ‘মাস হিস্টিরিয়ায়’ আক্রান্ত ৩৫ শিক্ষার্থী হাসপাতালে

হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের কয়েকজন (ছবি– প্রতিনিধি)

যশোরের শার্শা উপজেলার পাকশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৩৫ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিভাবকদের দাবি, কৃমিনাশক ওষুধ সেবন করায় ওই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, শিক্ষার্থীরা ‘মাস হিস্টিরিয়া’য় আক্রান্ত হয়েছে।

আজ বুধবার (১০ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে ৩৫ স্কুল শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে ১০ জনকে যশোর জেনারেল হাসপাতাল, ৭ জনকে শার্শা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং অন্যদের চৌগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।

যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে পাকশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির তামান্না ইয়াসমিন মিম, রাসেল, হালিমা, তাবাচ্ছুম হাবিব ঋতু ও রিমা, ৬ষ্ঠ শ্রেণির আলিফা ইয়াসমিন, শাহরিয়া ইয়াসমিন নিশি ও জান্নাতুল, ৭ম শ্রেণির মুন্নি এবং দশম শ্রেণির স্মৃতি।

অভিভাবক শামছুননাহার, সালেহা বেগম, আব্দুল মজিদ, হাবিবুর রহমান, সাদিকুল ইসলাম জানান, তিনদিন আগে তাদের ছেলেমেয়েদের কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানো হয়। এরপর থেকে তারা শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করছিল। আজ সকালে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, ছেলেমেয়েরা অসুস্থ হলেও স্কুলের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান তাদের বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেননি। পরে শার্শা উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান আহসান হাবিবকে জানানো হলে তিনি গাড়ি পাঠান। এরপর দুপুরে শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

একই স্কুলের হিসাববিজ্ঞানের শিক্ষক মমিনুর রহমান জানান, কৃমিনাশক ওষুধ সেবনে এ ঘটনা ঘটেনি। তবে কী কারণে এই অসুস্থতা তা তিনি বলতে পারেননি।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এম আব্দুর রশিদ বলেন, ‘এটা মাস হিস্টিরিয়া।  মূলত ছেলেমেয়েরা অসুস্থ হয়েছে মানসিক কোনও আতঙ্কে। কৃমিনাশক ওষুধ সেবনে এ ঘটনা ঘটার কোনও আশঙ্কা নেই। তবে বাচ্চারা সবাই বর্তমানে শঙ্কামুক্ত।’

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার অশোক কুমার সাহা জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। তাদের সবার অবস্থা ভালো। ৬ এপ্রিল সকালে বাচ্চারা ওষুধ সেবন করেছে। ওই ওষুধে যদি প্রতিক্রিয়া হয় তা ১২ ঘণ্টার মধ্যেই হবে। এটা আতঙ্কের কারণে হতে পারে।

অশোক কুমার সাহা আরও বলেন, ‘ছেলেমেয়েরা সবাই ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে গোসল করে বাড়ি থেকে বের হয়। অনেকে পান্তাভাত খায়।  পান্তাভাতে পেটের মধ্যে অ্যালকোহল সৃষ্টি হয়। এতে মাথা ঝিমঝিম করে এবং ঘুরায়। এক-দুইজন মাথা ঘুরে পড়েছে। অন্যরা আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।’