শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামে ভারত সরকারের সহায়তায় নির্মিত মণিপুরি থিয়েটারের নটমণ্ডপের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
রীভা গাঙ্গুলী দাস আরও বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ এবং এর নিকটবর্তী ভারতের বিভিন্ন রাজ্য একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বলয়ের অংশ। যোগাযোগের প্রসার এবং সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমে দুই দেশ এই আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক প্রসারে কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘সিলেট অঞ্চলে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তারমধ্যে বিশেষ কয়েকটি উদ্যোগের কথা উল্লেখ করি। ভারতের মেঘালয়ের ডাউকিতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য একটি চেকপোস্ট নির্মাণ করেছি। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে তামাবিল সীমান্তে নতুন স্থলবন্দর উদ্বোধন করেছি। ত্রিপুরা-বাংলাদেশ সীমান্তে মৌলভীবাজারে দুইটি নতুন হাট নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। হাটগুলো এমন এলাকায় স্থাপিত হবে সেখানে পর্যাপ্ত বাণিজ্য সুবিধা নেই। সিলেট অঞ্চলের কনস্যুলার সীমা নিশ্চিত করতে সিলেটে সহকারী ভারতীয় হাই কমিশন ও ভারতের গৌহাটিতে বাংলাদেশের একটি সহকারী হাই কমিশন স্থাপন করা হয়েছে। ভারত সরকার সিলেট ও মৌলভীবাজারে সাংস্কৃতিক সহযোগিতায়, জনকল্যাণ ও নগর উন্নয়নের লক্ষ্যে বহু উন্নয়ন প্রকল্পে সহায়তা করছে। ভারতের সরকারের সহায়তায় নির্মিত মণিপুরী থিয়েটারটি এমনই একটি উদ্যোগ। থিয়েটারটি উভয় দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধি করবে। মৌলভীবাজার নাট্যাঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে।’
ভারতের অর্থায়নে ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত মণিপুরী থিয়েটার নটমণ্ডপ উদ্বোধনকালে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার এল কৃষ্ণমূর্তি, জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম, মৌলভীবাজার সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন, কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ভারপ্রাপ্ত) সুমি আক্তার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের অধ্যাপক তামান্না রহমান প্রমুখ। পরে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরিদের নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে ঐতিহ্যবাহী বিষু উৎসব উদযাপন করা হয়। প্রতি বছরের মতো এবারও মণিপুরী থিয়েটার বিষু উৎসবকে ঘিরে আয়োজন করেছে নানান অনুষ্ঠান। এতে রয়েছে নাটকসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও মণিপুরিদের ঐতিহ্যবাহী নিকন (পাশা) খেলা।