'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত ব্যক্তি চরমপন্থী দাবি পুলিশের, এলাকাবাসীর দাবি বিএনপি নেতা

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা অস্ত্র ও গুলি

বগুড়ার শেরপুরে দুই পক্ষের মধ্যে কথিত বন্দুকযুদ্ধে শফিউর রহমান জ্যোতি (৫৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, তিনি পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক কমান্ডার। তবে জ্যোতি ধুনট উপজেলা বিএনপি‘র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমানে সক্রিয়া কর্মী ছিলেন বলে বিএনপি নেতারা দাবি করেছেন। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বোয়ালকান্দি সেতুর কাছে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে জানায় পুলিশ।

ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটারগান, তিন রাউন্ড কার্তুজ, একটি রামদা ও একটি মোটরসাইকেল পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে শেরপুর থানায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী ও শেরপুর থানার ওসি হুমায়ুন কবীর জানান, শফিউর রহমান জ্যোতি ধুনট উপজেলার প্রতাবখাদুলি গ্রামের মোজাফফর আলীর ছেলে। তিনি পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক কমান্ডার ছিলেন। তার বিরুদ্ধে পাঁচটি হত্যাসহ ১৩টি মামলা রয়েছে। ১৯৮৭ সালে নাটোরের গুরুদাসপুর থানা লুটের মামলায় তার ৮৪ বছরের সাজা হয়েছিল। পরবর্তীতে সরকারের সাধারণ ক্ষমায় মুক্ত হন। ধুনটে উপজেলা চেয়ারম্যান দুদুকে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যা করেছিলেন জ্যোতি।

পুলিশ আরও জানায়, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ধুনট-শেরপুর সড়কের বোয়ালকান্দি সেতুর কাছে মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে দুই দল চরমপন্থী সন্ত্রাসীদের মাঝে গুলিবিনিময় চলছিল খবর পেয়ে সেখানে যায় পুলিশের একটি টিম। তাদের দেখে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে সেখানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক কমান্ডার শফিউর রহমান জ্যোতিকে পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে একটি ওয়ান শুটারগান, তিন রাউন্ড কার্তুজ (বন্দুকের গুলি), একটি রামদা ও একটি মোটরসাইকেল পাওয়া গেছে। আহত জ্যোতিকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

ধুনট উপজেলা বিএনপি‘র সাধারণ সম্পাদক সরাফুজ্জামান পাশা জানান, জ্যোতি ৯০ দশকের দিকে সরকারি সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে সর্বহারা পার্টি থেকে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। তিনি ধুনট উপজেলা বিএনপি‘র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমানে সক্রিয় কর্মী ছিলেন।

শেরপুর থানার ওসি হুমায়ুন কবীর জানান, জ্যোতি আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার ঘোষণা দিলেও তিনি সর্বহারা পার্টির আঞ্চলিক কমান্ডার হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। নিহত জ্যোতির লাশ বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। এ ব্যাপারে শেরপুর থানায় মামলা হয়েছে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা তার লাশ নিতে আসেনি।