শেরপুরে কৃষক হত্যা মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার

১২

শেরপুরের নালিতাবাড়ীর কৃষক ইদ্রিস হত্যা মামলার প্রধান আসামি যোগানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ওরফে হবিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সিলেটের গোয়াইনঘাট ফতেহপুর থেকে তাকে আটক করা হয়। এর আগে এই ঘটনায় এজাহারভুক্ত আসামি চেয়ারম্যানের দুই স্ত্রী ও ভাই-বোনসহ আরও ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শনিবার (৪ মে) দুপুরে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. বিল্লাল হোসেন এসব তথ্য জানান।

জেলা পুলিশের কনফারেন্স রুমের প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ২ মে রাত দুইটার দিকে মামলার প্রধান আসামি হাবিবুর রহমান হবিকে গোয়াইনঘাট ও নালিতাবাড়ী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৩ মে রাতে তাকে নালিতাবাড়ী থানায় নেওয়া হয়।

আসামির স্বীকারোক্তির অনুসারে উপজেলার জামিরকান্দা গ্রামে তার তৃতীয় স্ত্রী আমেলা খাতুনের বাড়ির আঙ্গিনার একটি নারিকেল গাছের গোড়ার মাটির নিচ থেকে পলিথিনে মোড়ানো একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন ও গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান হবিসহ আরও দুজনকে আসামি করে অস্ত্র আইনে আরও একটি মামলা হয়েছে নালিতাবাড়ী থানায়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২৫ এপ্রিল সকালে যোগানিয়া কুত্তামারা গ্রামে ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের ভাতিজি-জামাই মাজব আলীর বাড়ির কাছে নিজের জমিতে কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে পাকা ধান কাটতে যান একই এলাকার সোহরাব আলী। এসময় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মাজব আলী দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রসহ লোকজন নিয়ে হামলা ও মারধর করে কৃষকদের। ফলে ধান কাটা ফেলে রেখে সোহরাব আলী বাড়ি চলে যান। বেলা এগারোটার দিকে আবারও লোকজন নিয়ে ক্ষেতে গিয়ে ধান কেটে বাড়ি নিয়ে যান তিনি। খবর পেয়ে বেলা দেড়টার দিকে চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবি দলবল নিয়ে সোহরাব আলীর বাড়িতে হামলা করে। উত্তেজনার ও গণ্ডগোলের একপর্যায়ে চেয়ারম্যান হবি ও তার ছেলে শান্ত তাদের সঙ্গে থাকা পিস্তল বের করে গুলি ছোড়েন। এসময় সোহরাব আলীর চাচাতো ভাই কৃষক ইদ্রিস আলী (২৫) গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।