উপজেলা প্রশাসন ও কোলা ইউপি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বদলগাছী উপজেলার কোলা ইউনিয়ন পরিষদের ছয়জন ইউপি সদস্য ২০১৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ইউপি চেয়ারম্যান এসকেন্দার মির্জা বাচ্চুর বিরুদ্ধে কোলার হাট ও ভান্ডারপুর হাটের ২২টি উন্নয়ন প্রকল্পের ৫১ লাখ ৩০ হাজার ৯৫১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমানের কাছে লিখিত দরখাস্ত দেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাসুম আলী বেগকে ওই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর অভিযোগটি তদন্তের নির্দেশ দেন। ইউএনও মাসুম আলী বেগ উপজেলা কৃষি অফিসার হাসান আলীকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন এবং দশ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেন। তদন্ত কমিটি উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা আত্নসাতের সত্যতা পায়। পরে ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয় এবং ২৯ অক্টোবর ইউএনও মাসুম আলী বেগ সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নওগাঁর স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালকে চিঠি দেন। এরপর আবারও পুনর্তদন্ত হয়। পরে ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় চেয়ারম্যান এসকেন্দার মির্জা বাচ্চুকে সাময়িক বরখাস্ত করে।এরপর গত ৩০শে এপ্রিল এসকেন্দার মির্জা বাচ্চুকে চুড়ান্তভাবে অপসারণ করা হয়।
এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান এসকেন্দার মির্জা বাচ্চু বলেন, ‘অপসারণের চিঠি এখনও হাতে পাইনি। তবে শুনেছি আমাকে অপসারণ করা হয়েছে। ইউনিয়নে যে কাজগুলো আমি করেছি সবগুলো দৃশ্যমান। একটি গোষ্ঠী আমাকে ক্ষমতা থেকে নামাতে উঠেপড়ে লেগেছিল। তবে আমার অবস্থান থেকে আমি স্বচ্ছ।’
ইউএনও মাসুম আলী বেগ বলেন, ‘কোলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এসকেন্দার মির্জা বাচ্চুকে তার পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে এমন একটি প্রজ্ঞাপন পেয়েছি। এখন তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’