জানা যায়, আলিফ হোসেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নুরনগর খয়েরমিল গ্রামের আখক্রয় কেন্দ্রের পেছনে বাবা, মা ও ছোট বোন নিয়ে বসবাস করে। তার বাবা আমিরুল ইসলাম শারীরিক অসুস্থতার কারণে কাজ করতে পারে না। বাড়ির ভিটা ছাড়া আর কোনও জমি নেই। এই জন্য আলিফকে সংসারের হাল ধরতে হয়েছে। পড়ালেখার পাশাপাশি ভ্যান চালিয়ে ও রাজমিস্ত্রির কাজ করে সে জীবিকা নির্বাহ করেছে। স্কুলে ভর্তি হলেও নিয়মিত ক্লাস করতে পারেনি।
আলিফ হোসেন বলে, ‘আমার পড়ালেখা করতে ভালো লাগে। শত কষ্ট হলেও পড়ালেখা শেষ করতে চাই। বাবার কোনও জমিজমা নেই। আড়াই কাঠা জমির ওপর বাড়ি। এক ঘরে আমি ও অন্য ঘরে বাবা-মা ও ছোট বোন থাকে। বাবার শরীরটা ভালো না। আমি যা রোজগার করি তা দিয়ে সংসার চলে। পাশাপাশি লেখাপড়া করছি। এছাড়া আড়ানী স্টেশন বাজারে কয়েকটি কাপ নিয়ে মা চা বিক্রি করে। এখানকার কিছু আয় থেকে ও আমার রোজগারের ওপর সংসার চলে। অভাব অনটনের কারণে ঠিকমত ক্লাস করতে পারিনি। তবে পরীক্ষায় ৪.১১ পেয়ে আমি খুশি।’
তকিনগর আইডিয়াল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মকবুল হোসেন বলেন, ‘আলিফ হোসেন নম্র ও বিনয়ী। সে লেখাপড়ার পাশাপাশি ভ্যান চালায়। সে ছাত্র হিসেবে ভালো।’
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোজাম্মেল হক রাজ বলেন, ‘আলিফ হোসেনের পরিবারকে পৌরসভা থেকে সহযোগিতা করার সাধ্যমতো চেষ্টা করি।’