‘অন্ধ হলেই হয় না কপাল মন্দ, অন্ধ হলেই হয় না সব পথ বন্ধ’-এমনটাই প্রমাণ করেছে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এসএসসি পরীক্ষার্থী হাসানুজ্জামান। ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে অংশ নিয়ে হাসানুজ্জামান কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা জয় করে সে পেয়েছে জিপিএ-৪ দশমিক ২৮।
হাসানুজ্জামানের বাড়ি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ এলাকায়। কৃষক নজির আহমেদের ৯ সন্তানের মধ্যে সপ্তম সন্তান হাসানুজ্জামান। ছয় ভাইয়ের মধ্যে হাসানুজ্জামান চতুর্থ। তার বড় তিন বোন রয়েছে। তার এক ভাই রফিকুজ্জামান চট্টগ্রাম কলেজ থেকে সম্প্রতি মাস্টার্স পাস করেছেন। ছোট দুই ভাইয়ের একজন শাহেদুজ্জামান নবম শ্রেণি, অন্যজন সাকিবুজ্জামান ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে।
এর আগে শিক্ষা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এই তরুণ। পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় পেয়েছিলো ৪ দশমিক ২৫। জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় পেয়েছিলো ৪ দশমিক ৩০। এরপর চলতি বছর সে নগরীর হামজারবাগস্থ রহমানিয়া স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
বড় ভাই রফিকুজ্জামানের অনুপ্রেরণায় পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে হাসানুজ্জামান। বাংলা ট্রিবিউনকে হাসানুজ্জামান বলে, ‘অন্ধ হওয়ায় মা কখনও আমাকে একা কোথাও যেতে দিতেন না। তিনি চাইতেন আমি সব সময় উনার পাশে থাকি। উনি ভয়ে থাকেন একা আমাকে কোথাও ছেড়ে দিলে যদি আমার ক্ষতি হয়। এ কারণেই তিনি আমাকে একা ছেড়ে দিতে চাইতেন না। কিন্তু রফিকুজ্জামান ভাইয়া একদিন বেড়াতে নিয়ে যাবে বলে আমাকে চট্টগ্রাম এনে সমাজসেবা অধিদফতরের পিএইচটি ট্রেনিং সেন্টারে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি করে দেয়। সেই থেকে এখানে পড়ালেখা করছি।’
সে আরও বলে, ‘আমাকে চট্টগ্রাম নিয়ে আসার কারণে মা ভাইয়াকে অনেক বকা দিতেন, বাবাও প্রথমে রাজি ছিলেন না। কিন্তু পিএসসি, জেএসসিতে ভালো ফলাফল করায় বাবা শেষদিকে এসে রাজি হয়েছেন। এসএসসিতে ভালো ফলাফল করায় এখন মাও খুশি। ভাইয়ার অনুপ্রেরণায় আজ আমি এসএসসি পাস করতে পেরেছি।’
হাসানুজ্জামান আরও বলে, ‘আমি বড় হয়ে বিসিএস ক্যাডার হতে চাই। এখন এসএসসিতে একটি ভালো কলেজে ভর্তি হয়ে ভালো ফলাফল নিয়ে পাস করার ইচ্ছে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবো এবং ভবিষ্যতে বিসিএস ক্যাডার হবো। এটাই আমার স্বপ্ন।’
সে বলে, ‘আমার দুই চোখ অন্ধ হলেও জ্ঞানের দরজা আমার জন্য খোলা। আমি পড়ালেখা করে দেখিয়ে দিতে চাই, ইচ্ছে থাকলে অন্ধ হয়েও সফল হওয়া যায়।’