রাজবাড়ীতে কোটি টাকার ড্রেজিং মেশিন জব্দ, আটক ৪

জব্দকৃত ড্রেজিং মেশিনরাজবাড়ী জেলার পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে কোটি টাকা মূল্যের একটি ড্রেজিং মেশিন জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় চারজনকে আটক করা হয়। মঙ্গলবার (৭ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এজাজ শফী।

আটক ব্যক্তিরা হলেন– মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় বাজার সংলগ্ন ওহাব মৃধার ছেলে লুৎফর মৃধা (৪০), উপজেলার বাহেরচর পশ্চিমপাড়া গ্রামের শফিক বিশ্বাসের ছেলে খোকন বিশ্বাস (২৯), বালিয়াকান্দি গ্রামের মৃত জয়নদ্দিনের ছেলে শামসুল ইসলাম (৬০), চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার দশানী উত্তরপাড়া গ্রামের মো. আবুল কালামের ছেলে রায়হান (২০)।

গত এক সপ্তাহে পদ্মা নদীতে প্রভাব বিস্তার ও বালু উত্তোলন নিয়ে দ্বন্দ্বে কোটি টাকা মূল্যের আরও দুটি ড্রেজিং মেশিন তলা কেটে ডুবিয়ে দেয় প্রতিপক্ষ। এ পরিস্থিতিতে পদ্মায় সাংঘর্ষিক ও প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দেয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সোমবার বিকালে পদ্মা নদীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ভাটিতে গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের চর মজলিশপুর পাকড়দিয়া এলাকায় অভিযান চালায়।

জানা যায়,পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজিং মেশিন দিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে বালু উত্তোলন করে আসছিল প্রভাবশালী একাধিক মহল। এ নিয়ে নদীতে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছিল রক্তক্ষয়ী সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার বিকালে সেখানে অভিযান চালায় গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ। এ সময় ড্রেজিং মেশিন সহ ওই চারজনকে আটক করা হয়।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ, মানিকগঞ্জের হরিরামপুর ও ফরিদপুর সদরের নিকটবর্তী স্থানে পদ্মা নদীতে বালু উত্তোলন নিয়ে তিন জেলার একাধিক প্রভাবশালী গ্রুপের মধ্যে কিছুদিন যাবৎ উত্তেজনা চলে আসছিল। মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার লালন ফকির, আজাদ, হিমায়েতউল্লাহ ও ফরিদপুরের মিন্টুসহ আরও বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এই বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

গ্রেফতার রায়হান জানান, তারা প্রতিদিনের মজুরি হিসেবে এই খনন কাজে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। দুদিন আগে ২০-২৫ জন মানুষ অস্ত্র নিয়ে এসে এখানে খনন কাজে নিয়োজিত আরেকটি বিশাল আকৃতির ড্রেজিং মেশিনের তলা কেটে ডুবিয়ে দেয়। এছাড়া সেখানে থাকা শ্রমিকদের মারধরও করে। কিন্তু কী কারণে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে সে সম্পর্কে কিছু বলতে পারেননি রায়হান।

এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি এজাজ শফী জানান, শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পদ্মা নদীর দুর্গম এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে আটক ব্যক্তি ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ ঘাট থানার  উপপরিদর্শক (এসআই) ওলিউর রহমান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। আটকদের মঙ্গলবার রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়েছে।