নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের ঘোষিত প্রজ্ঞাপনে জানা গেছে, সদর আসনের উপ-নির্বাচন পরিচালনায় বগুড়ার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুব আলম শাহকে রিটার্নিং অফিসার ও সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাকির হোসেনকে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ২৩ মে, বাছাই ২৭। ৩ জুন মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং ৪ জুন প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ২৪ জুন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ইভিএমের মাধ্যমে ভোট নেওয়া হবে।
বগুড়ার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুব আলম শাহ জানান, বৃহস্পতিবার নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।
উপ-নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এখন পর্যন্ত যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন– বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য প্রয়াত সভাপতি আলহাজ মমতাজ উদ্দিনের ছেলে এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক ও বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাছুদুর রহমান মিলন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, সংসদে সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ওমর, বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ কবির আহম্মেদ মিঠু, জার্মান আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আসাদুর রহমান খন্দকার লাইজু, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ।
উপ-নির্বাচনে প্রার্থিতার ব্যাপারে এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক, শ্রেষ্ঠ করদাতা ও বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাছুদুর রহমান মিলন জানান, পারিবারিকভাবে তাদের আওয়ামী লীগের প্রতি আনুগত্য। তাই দল বিবেচনা করলে তিনি প্রার্থী হবেন এবং তার বাবার অসমাপ্ত কাজগুলো বাস্তবায়ন করবেন। আওয়ামী লীগ মনোনয়ন না দিলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন কিনা এ প্রসঙ্গে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক ডালিয়া খাতুন রিক্তা জানান, জেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি আলহাজ মমতাজ উদ্দিন বগুড়ার উন্নয়নে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ, যানজট নিরসনে শহরের বাইরে রেলপথ সরিয়ে নেওয়া, একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, দুটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়সহ আট দফা দাবিতে কাজ করছিলেন। বহু প্রতিকূলতা ও ত্যাগের বিনিময়ে মমতাজ উদ্দিন আমৃত্যু আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন। মমতাজ উদ্দিনের অবদান মূল্যায়ন করতে এবং তার স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নে ছেলে মাছুদুর রহমান মিলনকে সদর আসনের উপ-নির্বাচনে প্রার্থী করা প্রয়োজন। তিনি এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
সম্ভাব্য প্রার্থী সংসদে সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ, জেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ওমর বলেন, ‘গত সংসদে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছি। বগুড়ার উন্নয়নে সংসদে অনেক ভূমিকা পালন করেছি। এবারের উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হলে অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
ফেসবুকে মাসুদ করিম নামে এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, রাগেবুল আহসান রিপু বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বলীয়ান হয়ে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদ এবং বগুড়া সরকারি আজিজুল হক ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন। দীর্ঘদিন বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে রিপু বগুড়া সদর আসনে প্রার্থী হলেও কেন্দ্রীয় নির্দেশে মহাজোটকে ছেড়ে দেন। তিনি ত্যাগী, সৎ ও জনপ্রিয় নেতা রিপুকে সদর আসনের উপ-নির্বাচনে প্রার্থী করতে অনুরোধ জানিয়েছেন।
জিয়া শাহীন নামে একজন ফেসবুকে জানিয়েছেন, তার বাল্যবন্ধু সাবেক শ্রমিক নেতা সৈয়দ কবির আহম্মেদ মিঠু সদর আসনের উপ-নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন। তিনি তার বন্ধুর জন্য সদর আসনের ভোটারদের সমর্থন ও দোয়া চেয়েছেন। সৈয়দ কবির আহম্মেদ মিঠু স্থানীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন ও ফেসবুকে তার প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানিয়েছেন।
বগুড়া-৬ (সদর) আসনে ১৯৯৬ সালের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন, জার্মান আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আসাদুর রহমান খন্দকার লাইজু। তিনি বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট জহুরুল ইসলামের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৪৮ হাজার ভোট পেয়ে পরাজিত হন। সমর্থকরা ফেসবুকে লাইজুকে সদর আসনে মনোনয়ন দিতে অনুরোধ জানিয়েছেন। লাইজু জানান, উপ-নির্বাচনে মহাজোটকে ছেড়ে দেয়া হবে না। তিনি আশা করেন, নেত্রী শেখ হাসিনা তাকে মনোনয়ন দেবেন এবং তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তিনি শিগগিরই প্রচরণায় মাঠে নামবেন।
ওমর আলী নামে এক সমর্থক ফেসবুকে জানিয়েছেন, বগুড়া সদর আসনের উপ-নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান প্রার্থী হবেন। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড থেকে ইতোমধ্যে তাকে (ড. সিদ্দিকুর) গ্রীণ সিগন্যাল দেওয়া হয়েছে।
সদরের ধানের শীষের ভোটাররা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, তারা ভেবেছিলেন, শেষ মুহূর্তে হলেও তাদের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদে যাবেন; এলাকার উন্নয়নে প্রতিনিধিত্ব করবেন। কিন্তু তিনি শপথ না নেওয়ায় স্পিকার বিধি মোতাবেক তার আসন শূন্য ঘোষণা করেছেন। এতে তারা হতাশ হয়েছেন। তারা স্থানীয় কোনও যোগ্য নেতাকে প্রার্থী করার অনুরোধ জানিয়েছেন।