রবিবার (১২ মে) বিকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে র্যাব-১১-এর কর্মকর্তারা এই অভিযান চালান।
এ সময় ভেজাল জুস উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে কারখানার ম্যানেজার ও কেমিস্টসহ চারজনকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই কারখানার মালিক আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে নিয়মিত মামলা করা হবে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্তরা হলেন– ইয়েনাথ হোসেন (৩৪), বিল্লাল হোসেন (২৭), নাজমুল আলম (৩৫) ও কেমিস্ট কাজল হোসেন রাজন (২২)।
নাজমুস সাকিব আরও জানান, রবিবার বিকালে র্যাব ১১ সদস্যরা জেলা প্রশাসনের নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নকল জুস কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল জুস ও বিভিন্ন কোম্পানির লেভেল,খালি বোতল,বাজারজাত করার জন্য উৎপাদিত বোতলজাত জুস এবং শিশুদের জন্য ছোট ছোট প্লাস্টিকের প্যাকেটে রাখা পাইপ জুসসহ উৎপাদনের জন্য রাখা কেমিক্যাল জব্দ করা হয়।
জেলা প্রশাসনের নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম জানান, মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর ভেজাল ও নকল জুস উৎপাদনের অভিযোগে সাদিয়া ফুডের ম্যানেজার ও কেমিস্টসহ চারজনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই কারখানায় উৎপাদিত প্রায় ২০ লাখ টাকার ভেজাল জুস ও বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল ধ্বংস করা হয়েছে। সাদিয়া ফুড কারখানাটি সলিগারা করে দেওয়া হয়েছে। এই কারখানার মালিক আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে নিয়মিত মামলা করা হবে।
এ ব্যাপারে সাদিয়া ফুড প্রোডাক্টের কেমিস্ট কাজল হোসেন রাজন জানান, সাদিয়া ফুড প্রোডাক্টে কোনও আম বা জুস বানানোর জন্য কোনও উপাদান ব্যবহার করা হয় না। চিনির সঙ্গে বিভিন্ন কেমিক্যাল ব্যবহার করে তা আগুনে উত্তপ্ত করে প্রস্তুত করা হয় বিভিন্ন ফ্লেভারের জুস। এই জুস বানানোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় জেনথেন, সাট্রিক অ্যাসিড, সোডিয়াম সাইট্রিড, সোডিয়াম সাবেট, বেনজোয়েড, এসপারটেন, বিটাকেরোডিন, ক্লাউডিনসহ বিভিন্ন কেমিক্যাল। এই ভেজাল জুস মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর।