গত ১৬ এপ্রিল রাতে কালবৈশাখী ঝড়ে শৈলকুপার বসন্তপুর গ্রামের সেকেন্দার মন্ডলের একটি ইপিল-ইপিল গাছের ডাল ভেঙে পড়ে প্রতিবেশী ওলিয়ার রহমানের ঘরের ওপর। এ নিয়ে রাতেই দু’পক্ষের ঝগড়া হয়। সকালে চাচাতো ভাই রতন মন্ডলসহ কয়েকজন মিলে গাছ সরাতে গেলে ওলিয়ারের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত রতনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পরদিন নিহত রতনের বাবা রায়হান মন্ডল বাদী হয়ে ২৭ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এ পর্যন্ত কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি। আসামিদের মধ্যে কয়েকজন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। কিন্তু মূল আসামি জাহাঙ্গীরকে পুলিশ এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি। জাহাঙ্গীর পলাতক থেকে বাদী পক্ষকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করার সুবাদে জাহাঙ্গীর এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে ও হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশকে ম্যানেজ করে গ্রেফতার এড়িয়ে চলছে বলে অভিযোগ নিহতের স্বজনদের।
নিহতের বাবা রায়হান মন্ডল অভিযোগ করেন, ‘প্রকাশ্যে জাহাঙ্গীর আমার ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। যা সবাই দেখেছে। থানায় মামলা করা হলেও তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না।’
নিহতের ভাই রিপন বলেন, ‘বিভিন্ন সময় দেখে আসছি পুলিশ ক্লু-লেস হত্যার রহস্য উদঘাটন করে আসামিদের কয়েকদিনের মধ্যে গ্রেফতার করছে। আমারা ভাইকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করলো জাহাঙ্গীর। যা সবাই স্বচক্ষে দেখেছে। কিন্তু পুলিশ অজ্ঞাত কারণে তাকে গ্রেফতার করছে না। এ ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।’
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বাদীপক্ষের অভিযোগ অস্বীকার করে শৈলকুপা থানার ওসি কাজী আয়ুবুর রহমান বলেন, ‘জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছি। তবুও গ্রেফতার করতে পারছি না। মামলা মনে হয় সিআইডিতে চলে যাচ্ছে।’