'বগুড়ায় ধানের শীষ প্রতীকে কলাগাছও জিতবে, এখানে আসলে ইভিএম জায়েজ করবে সরকার'

বগুড়ায় সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ

ইভিএম মেশিনে ভোটগ্রহণে জালিয়াতির আশঙ্কা প্রকাশ করে বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে কলাগাছ দাঁড়ালেও বগুড়াবাসী তাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবেন। এখানে ভোট দিলেও বিএনপি না দিলেও বিএনপি বিজয়ী হবে। তাই কৌশলী আওয়ামী লীগ সরকার টেম্পারিংযোগ্য ইভিএম মেশিনকে জায়েজ করার জন্যই এ নির্বাচনে তা ব্যবহার করছে। বগুড়া সদর আসনে যেহেতু বিএনপি ইভিএম মেশিনের ভোটেও জিতবে, তাই অন্যত্র ব্যবহার করলে কেউ অভিযোগ তুলতে পারবেন না।’

বুধবার (২৯ মে) দুপুরে শহরে সূত্রাপুর রিয়াজ কাজী লেনে তারেক রহমানের বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

লিখিত ও মৌখিক বক্তব্যে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান ৯ বছরের পুরাতন বগুড়া জেলা বিএনপির কমিটি বাতিল করেন। আমাকে আহ্বায়ক করে গত ১৫ মে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছেন তিনি। সরকারের মিথ্যা ফরমায়েশি মামলায় কারারুদ্ধ চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সমাবেশ করা হয়েছে। বগুড়া জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে তিন মাস সময় দেওয়া হলেও তারেক মডেলে অর্থাৎ সব তৃণমূল কমিটি গঠনের পর আগামী ছয় মাসের মধ্যে জেলা কমিটি করা হবে।’

১৪ দিন যাবৎ শহরের নবাববাড়ি সড়কে দলীয় কার্যালয়ে তালা দিয়ে রাখা বিদ্রোহী ও বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘দলের গঠনতন্ত্র ও নিয়ম-শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী বহিষ্কৃত কিছু বিপথগামী আহ্বায়ক কমিটির বিপক্ষে মিথ্যাচার করছে। এরা দলের কেউ নন। তারা দলকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করছে। তাই সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানাই, তাদের মিথ্যা সংবাদ হাইলাইট করবেন না।’

গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, ‘স্বৈরাচারী সরকার খালেদা জিয়াকে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে ফরমায়েশি মামলায় জেলে পাঠিয়ে তার মনোনয়ন বাতিল করে। যে কারণে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করা হয়। তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হলেও রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কৌশলগত কারণে শপথ না নেওয়ায় বগুড়া-৬ (সদর) আসন শূন্য হয়েছে। বৈধ প্রার্থী ঘোষিত হওয়ার পর দলের নীতিনির্ধারকরা আমাকে দলীয় প্রতীক গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাই আগামী ২৪ জুন বগুড়া সদর আসনের উপনির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছি।’

দলীয় কার্যালয়ে তালা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেখানে তালা থাকলেও সবকিছুই আমাদের। সেখানে গেলে দলের বহিষ্কৃত ক্ষুদ্র অংশ সিন ক্রিয়েট করবে। পটকা ফুটলেও বোমা বিস্ফোরণের খবর প্রচার হবে। অনেকের নামে মামলা হবে। আর তখন নির্বাচনি প্রচারণায় বিঘ্ন ঘটবে। তাই আমরা সূত্রাপুরে তারেক রহমানের বাসভবনকে নির্বাচনি প্রধান কার্যালয় ও শহরে আরও তিনটি শাখা অফিস করেছি।’

তিনি বহিষ্কৃত বিদ্রোহী বিএনপি ও অঙ্গসংঠনের নেতাকর্মীদের ২৯ মে বুধবারের মধ্য ফিরে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন। অন্যথায় তাদের বিপদ হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। শহরের সূত্রাপুর রিয়াজ কাজী লেনের চম্পামহলে তারেক রহমানের বাসভবন সম্পর্কে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু বলেন, ‘জায়গা রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়নি। তাকে (তারেক) মৌখিকভাবে দান করা হয়েছে। তারেক রহমান ওই জায়গার ওপর নিজ খরচে দ্বিতল বাসভবন করেছেন। বর্তমানে এ বাসভবনটিই উপনির্বাচনের প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট একেএম সাইফুল ইসলাম, সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, আলী আজগর তালুকদার হেনা, মাহবুবর রহমান বকুল, হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, এম আর ইসলাম স্বাধীন, ওমর ফারুক, খায়রুল বাশার, সহিদ-উন-নবী সালাম, মনিরুজ্জামান মনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।