শীলাব্রত বড়ুয়া বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, রাত ১টার দিকে গুরুতর আহতাবস্থায় অমিত মুহুরিকে হাসপাতালে আনা হয়। তার মাথায় গুরুতর জখম ছিল। ডাক্তার মাথা সেলাই করার কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নাছের আহমেদ জানিয়েছেন, ৩২ নম্বর সেলের রিপন নামে এক কয়েদির ইটের আঘাতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান অমিত মুহুরি। পরে তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
রাজনীতিতে অমিত মুহুরি যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ অর্থবিষয়ক সম্পাদক হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরের অনুসারী। তার মৃত্যুর ঘটনায় হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরের অনুসারীরা মেডিক্যালের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভাঙচুর চালায়।
অমিত মুহুরী নগরের সিআরবির জোড়া খুনের মামলার আসামি। রাউজান পৌরসভার রেজাউল করিমের ছেলে ইমরানুল করিম ইমন হত্যা মামলায় ২০১৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর পুলিশ তাকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করে। এরপর থেকে অমিত মুহুরি কারাগারে ছিলেন।
২০১৭ সালের ১৩ আগস্ট নগরীর কোতয়ালি থানার এনায়েত বাজার রানীর দিঘী থেকে সিমেন্ট ঢালাই করা ড্রামের ভেতর থেকে এক অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, নিহত যুবক রাউজান পৌরসভার রেজাউল করিমের ছেলে ইমরানুল করিম ইমন (২৬)। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৩০ আগস্ট পুলিশ শফিক ও শিশির নামে দুজনকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জানতে পারে, স্ত্রী চৈতীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এ সন্দেহ থেকে ৮ আগস্ট রাতে বাল্যবন্ধু ইমনকে নগরীর নন্দনকাননস্থ নিজ বাসায় ডেকে নিয়ে যায় যুবলীগকর্মী অমিত মুহুরি। সেখানে রাতভর নির্যাতনের পর ভোরের দিকে পৈশাচিক কায়দায় হত্যা করে লাশ ড্রামে ঢুকিয়ে রাখে। তিন দিন লাশটি বাথরুমে রেখে ১২ আগস্ট গভীর রাতে পার্শ্ববর্তী রানীর দিঘিতে ড্রামটি ফেলে দেয়।