কনস্টেবল পারভেজকে ধাক্কা দেওয়া কাভার্ডভ্যানটি চালাচ্ছিল হেলপার

পুলিশ কনস্টেবল পারভেজ মিয়াযে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় সাহসী পুলিশ কনস্টেবল পারভেজ মিয়া পা হারিয়েছেন সেটি চালাচ্ছিল হেলপার ( চালকের সহকারী)। তার নাম মো. ইয়াছিল উল্লাহ মামুন (২৪)। বৃহস্পতিবার (৩০ মে) বিকালের দিকে গাড়িসহ চালক ও হেলপারকে কাঁচপুর সেতু এলাকা থেকে আটকের পর এমন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। আটক মো. ইয়াছিল উল্লাহ মামুনের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর জেলার ছগিরহাট থানার আশ্রাফপুর গ্রামে। চালক জাহিদুল ইসলামের (২৩) বাড়িও একই গ্রামে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন জানান, কাভার্ডভ্যানটির মূল চালক জাহিদুল ইসলাম হলেও সেদিন গাড়িটি চালায় ইয়াছিল উল্লাহ মামুন। ন্যাশনাল ক্যারিয়ার কোম্পানির গাড়িটি ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির হেফাজতে আছে। ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করবে। গাড়ির কাগজপত্র ঠিক আছে। প্রাথমিকভাবে চালক ও হেলপার স্বীকার করেছে পারভেজকে ধাক্কা দেওয়ার কথা।
তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে গাড়ির বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। এরপর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে হাইওয়ে পুলিশ কাঁচপুর সেতু এলাকা থেকে কাভার্ডভ্যানসহ চালক ও হেলপারকে আটক করে। এর আগে গজারিয়া উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে জামালদি বাসস্ট্যান্ডের সামনে সোমবার (২৭ মে) বিকেলে কনস্টেবল পারভেজকে ধাক্কা দেয় ওই বেপরোয়া কাভার্ডভ্যানটি। এতে তার ডান পায়ের গোড়ালি ও হাত মারাত্মক জখম হয়। মঙ্গলবার (২৮ মে) বিকেলে জীবন বাঁচাতে চিকিৎসকরা অপারেশন করে তার ডান পা কেটে বাদ দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ৭ জুলাই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চাঁদপুরগামী যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডোবায় পড়ে যায়। যাত্রীদের রক্ষায় জীবনবাজি রেখে ডোবা থেকে ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন তৎকালীন দাউদকান্দি হাইওয়ে থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল পারভেজ মিয়া। তার ওই সাহসিকতার জন্য তাকে দেওয়া হয় পুলিশের সর্বোচ্চ পুরস্কার বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম)।

অঅরও পড়ুন: জীবন বাঁচাতে পা হারালেন সেই সাহসী কনস্টেবল পারভেজ