২০১৮ সালের জানুয়ারিতে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের শ্যামগঞ্জ পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার ও প্রশস্তকরণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের জুলাই মাসে রাস্তার সংস্কার ও প্রশস্তকরণের কাজ সমাপ্তির মেয়াদ নিধার্রণ করা হয়। রাস্তার কাজ শুরু হয় গত বছর ২১ জুলাই। তবে এক বছরে কাজ সম্পন্ন হয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশ। নেত্রকোনা সড়ক বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন এই তথ্য জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুটি প্যাকেজে এই কাজ ভাগ করা হয়। প্রথম প্যাকেজের কাজ পায় পেট্রা ইঞ্জিনিয়ারিং ও তানভির কন্সট্রাকশন নামে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দ্বিতীয় প্যাকেজে এমএম বির্ল্ডাস, ইনফ্লাটেক ও তানভির নামের তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পায়। দুটি প্যাকেজের এই কাজের ব্যয় ধরা হয় ১০৭ কোটি টাকা। ১৯ কিলোমিটার সড়ক দুই ভাগে ভাগ করে কাজ শুরু হয়। তবে কোনও অংশেই ৩০ শতাংশের ওপর কাজ শেষ হয়নি।
নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ সড়কের শ্যামগঞ্জ বাজারের ইছবপুর মোড়সহ ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে ভবের বাজার, নারান্দিয়া, হিরনপুর, বাগড়া, চল্লিশাসহ নেত্রকোনা আসার পথে একটু পরপরই রাস্তার বেহাল দশা। বড় বড় গর্ত আর ইট বালি উঠে গিয়ে খানাখন্দে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এ সড়কে চলাচলকারী শাহজলাল পরিবহনের বাসচালক মো. বাদল মিয়া জানান, ‘ঈদের সময় এমনিতেই রাস্তায় যানবাহন বেশি। তার ওপরে চালকদের প্রতিযোগিতার কারণে সড়কে দুর্ঘটনা বেশি হয়। এ ব্যাপারে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি আছে। তাছাড়া এখন এই ঈদ মৌসুমে রাস্তায় খোড়াঁখুড়িও সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এতে জনদুর্ভোগ বাড়বে। এই সড়কের মেরামতের কাজ আরও আগে শুরু করা উচিত ছিল।’
শ্যামগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী টুলু রায় বলেন, ‘এই সড়কে দীর্ঘদিন কাজ না করে এখন ঈদকে সামনে রেখে হঠাৎ এমন সংস্কার কাজ সাধারণ মানুষের উপকারে না এসে বরং দুর্ভোগের কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। কেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ কাজ আগে সম্পন্ন করেনি।’ কেন এমন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মেরামত কাজে দেরি করা হলো তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
টুলু রায় জানান, ঈদ উপলক্ষে এ সড়কে যান চলাচল বেড়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের টনক নড়ে। গত ২৫ মে থেকে দুই-তিন দিন ধরে তারা গভীর রাতে এই সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নামেমাত্র সংস্কার করেছে।
এ ব্যাপারে জানতে তানভীর কনস্ট্রাকশনের মালিক তানভীর হোসেনকে ফোন করা হলে রং নম্বর বলে তিনি ফোন কেটে দেন।
নেত্রকোনা সড়ক বিভাগের নিবার্হী প্রকৌশলী মো. দিদারুল আলম তরফদার জানান, ‘নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ সড়কের ঠিকাদার মূলত পেশাদার ঠিকাদার না হওয়ায় কাজের এমন ধীরগতির ঘটনা ঘটেছে। আমরা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের লিখিত ও মৌখিকভাবে বারবার কাজ শুরু করার তাগিদ দিয়েও ব্যর্থ হয়েছি।’