কুড়িগ্রামে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্বামী শাশুড়িসহ গ্রেফতার ৩

ভ্যানে আরিফা আক্তারের মরদেহ কুড়িগ্রাম শহরের কলেজপাড়ায় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী আরিফ মিয়া, শাশুড়ি আকলিমা ও দেবর আশিক মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (১ জুন) রাতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহফুজার রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত গৃহবধূর নাম আরিফা আক্তার (২০)। তিনি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভরসার মোড় এলাকার আলম মিয়ার মেয়ে। এ ঘটনায় নিহত আরিফার মা কোহিনুর বেগম বাদী হয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকে অভিযুক্ত আরিফ মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন যৌতুকের জন্য আরিফাকে নির্যাতন করে আসছে। শনিবার (১ জুন) বিকালে অভিযুক্ত আরিফ তার পরিবারের লোকজনসহ যৌতুকের দাবিতে আরিফার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে তারা সবাই মিলে আরিফাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পুলিশ খবর পেয়ে রাতে কলেজপাড়ার আরিফের বাড়ি থেকে আরিফার লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। পরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আরিফ, শাশুড়ি আকলিমা ও দেবর আশিক মিয়াকে গ্রেফতার করে। রবিবার সকালে নিহত আরিফার মা কোহিনুর বেগম বাদী হয়ে আরিফ মিয়াসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলার অপর অভিযুক্তরা হলো আরিফের বাবা আশরাফ আলী ও ননদ আশামনি। পলাতক এ দুজনকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
নিহতের বাবা আলম মিয়া বলেন, ‘বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে ৫০ হাজার টাকাসহ সোনার গহনা দিয়েছি। এরপরও তারা নানা সময় টাকা দাবি করতো। কয়েকদিন থেকে তারা আমার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করে আসছিল। টাকা দিতে না পারায় তারা আমার মেয়েকে মেরে ফেলছে। আমি সরকারের কাছে এর বিচার চাই।’
কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহফুজার রহমান জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে নিহত গৃহবধূর গলা ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।