নওগাঁয় বজ্রাঘাতে শিশুসহ নিহত ৩
নওগাঁর বিভিন্ন স্থানে বজ্রাঘাতে শিশুসহ তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২ জুন) দুপুরে জেলার সাপাহার, পোরশা ও মহাদেবপুর উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাপাহার থানার ওসি শামছুল আলম জানান, সাপাহারের কলমুডাঙ্গা এলাকার একটি মাঠে ধান কাটার সময় চুটু (৫০) নামে এক ব্যক্তি বজ্রাঘাতে মারা যান। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায়। তিনি ধান কাটার কাজে নওগাঁয় এসেছিলেন।
পোরশা থানার ওসি শাহীনুর রহমান জানান, দুপুরে গরু নিয়ে মাঠে যাওয়ার সময় নশিংগাহার গ্রামের মৃত ফুল মোহাম্মাদের ছেলে আব্বাস আলীর (৪৫) বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়।
মহাদেবপুর থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন জানান, উপজেলার বাখরাবাদে বাড়ির বারান্দায় বসে খেলছিল নাদির নামে ১২ বছরের এক শিশু। এ সময় বজ্রাঘাতে মারা যায় সে।
নড়াইলে বজ্রাঘাতে গৃহবধূর মৃত্যু
নড়াইলে বজ্রাঘাতে কুলসুম বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২ জুন) বেলা ১১টার দিকে নড়াইল পৌরসভার ডুমুরতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কুলসুম ডুমুরতলা গ্রামের আলম মোল্যার স্ত্রী। নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইলিয়াস হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রবিবার মেঘ দেখে বাড়ির পাশে বেঁধে রাখা গরু আনতে যান কুলসুম। এ সময় বৃষ্টি নামলে বজ্রাঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জয়পুরহাটে বজ্রাঘাতে কৃষকের মৃত্যু
জয়পুরহাটে বজ্রাঘাতে হাফিজুল ইসলাম (৩৮) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২ জুন) দুপুরে ক্ষেতলাল উপজেলার মুন্দাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। একই গ্রামের নাহিদ হোসেন নামে আরও এক কৃষকও বজ্রাঘাতে আহত হন। ক্ষেতলাল থানার ওসি শাহরিয়ার খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত কৃষক মুন্দাইল গ্রামের আকবর আলীর ছেলে।
থানা ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মাঠে কৃষিকাজ করার সময় দুপুর ১টার দিকে বজ্রাঘাতে হাফিজুলের পুরো শরীর ঝলসে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর, কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পঞ্চগড়ে বজ্রাঘাতে একজনের মৃত্যু
পঞ্চগড়ে বজ্রাঘাতে আশরাফুল ইসলাম (২৮) নামের এক কৃষি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও দু’জন। রবিবার (২ জুন) পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাতকাজলদিঘী ইউনিয়নের ফকিরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোজাহার আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত আশরাফুল ইসলামের বাড়ি সদর উপজেলার কামাতকাজলদিঘী ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আবুল হোসেন ওরফে বিশারুর ছেলে।
আহতরা হলেন, ওই এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে আরিফুজ্জামান (২৬) ও ময়জুদ্দিনের ছেলে মোবারক হোসেন (২৬)।
কামাতকাজলদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মো. অজিফুল ইসলাম জানান, আশরাফুল ইসলামসহ কয়েকজন শ্রমিক ধান কেটে সেগুলো বাড়ি পৌঁছাচ্ছিলেন। তখন গুঁড়ি-গুঁড়ি বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই আশরাফুল মারা যান। আহত হন তার সহকর্মী আরিফুজ্জামান ও মোবারক হোসেন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। আরিফুজ্জামান প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। মোবারক হোসেনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।