ঈদে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছাতে পোশাক শ্রমিকদের জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) পক্ষ থেকে ৬০টি বাস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গাজীপুর ও রাজধানী থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে এসব বাস ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত স্টেশন বা বাস ছাড়ার শিডিউলের বিষয়ে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ কিছুই জানাতে পারেননি। পোশাক শ্রমিক ও গার্মেন্ট মালিকরাও এ ব্যাপারে কিছু জানেন না। তবে এ বিষয়ে বিআরটিসি কর্মকর্তারা সব কার্যক্রম সম্পন্ন দাবি করলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
সোমবার (৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে গাজীপুর মহানগরের টেকনগপাড়া এলাকার বিআরটিসি ডিপোতে গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন বাসে ‘ঈদ স্পেশাল সার্ভিস’ স্টিকার লাগানো হচ্ছে। বাসগুলো সেখান থেকে বের করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে সারিবদ্ধ করে রাখা হচ্ছে।
গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকার সিএ গার্মেন্টস লিমিটেডের সুইং শাখার অপারেটর পলি জানান, তিনি সোমবার সকালে কারখানায় হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফেরার উদ্দেশে বের হয়েছেন। তার বাড়ি জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলায়। তাদের জন্য সরকার কোনও স্পেশাল যাতায়াত সুবিধার ব্যবস্থা রেখেছেন কিনা তিনি তা জানেন না। একই কারখানার অপারেটর আরিফুল ইসলাম, মুনসুর আহমেদ ও অন্যরা জানান, ঈদ উপলক্ষে বিআরটিসি বাস বরাদ্দের বিষয়ে তাদের কারখানা বা বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ কেউ কিছু জানাননি।
এ বিষয়ে খানটেক্স ফ্যাশনস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ ও প্রশাসন) সৈয়দ শামসুর রায়হান বলেন, ‘ঈদে স্পেশাল বিআরটিসি বাস সার্ভিসের ব্যাপারে কেউ কিছু জানায়নি। তাই কারখানার পক্ষ থেকে শ্রমিকদেরও বিষয়টি জানানো সম্ভব হয়নি।’
গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার বটমস গ্যালারি প্রাইভেট লিমিটেডের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ ও প্রশাসন) শুক্কুর খান জানান, ‘শ্রমিকদের বহনে বিআরটিসির কোনও স্পেশাল সার্ভিসের বিষয়ে তাদের জানানো হয়নি।’
গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী এলাকার ইয়ার্ন রেইস গ্রুপের লিংকিং বিভাগের শ্রমিক রাসেল বলেন, ‘সকাল ১০টায় তিনি চান্দনা চৌরাস্তায় এসেছেন। বেলা ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কোনও বাসে চড়তে পারেননি।’ শ্রমিকদের বহনের জন্য বিআরটিসির কোনও বাস চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া বাইপাস ও বোর্ডবাজার এলাকায় দেখতে পাননি তিনি। তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার কেন্দুয়া উপজেলার আঠারোবাড়ি এলাকায়।
এ ব্যাপারে বিআরটিসির ইন্সট্রাক্টর তমিজ উদ্দিন ও শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদে স্পেশাল বাস সার্ভিসের চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের সঙ্গে আচরণ ও রোড পরিচালনার বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে তাদের। এ পর্যন্ত ৩০টি বাস শ্রমিকদের জন্য বুকিং দেওয়া হয়েছে।’ তবে বুকিং নেওয়া শ্রমিক ও প্রশিক্ষিত চালকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা বললে তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান।
এ ব্যাপারে বিআরটিসি’র উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) প্রকৌশলী ফাতেমা বেগমের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা বললে ইন্সট্রাক্টর জানান, প্রকৌশলী ফাতেমা তিন দিন পর অফিসে এসেছেন। এখন কাজে ব্যস্ত থাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না।
প্রসঙ্গত, ঈদে বাড়িতে পৌঁছাতে পোশাক শ্রমিকদের জন্য ৬০টি বাসের ব্যবস্থা করে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। গাজীপুর ও রাজধানী থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে এসব বাস ছেড়ে যাওয়ার কথা। এ বিষয়ে বিআরটিসি বাসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশন) মনিরুজ্জামান বাবু জানিয়েছিলেন, ‘ঈদের ছুটিতে পোশাক শ্রমিকদের দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পরিবহনের জন্য সোমবার (৩ জুন) গাজীপুর চৌরাস্তায় ৩০টি বাস প্রস্তুত থাকবে। এছাড়া রাজধানী ও এর আশপাশে অবস্থিত পোশাক কারখানার শ্রমিকদের জন্য ২৯টি বাস বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাবে। সেই হিসাবে ঈদে এবারই প্রথম প্রায় ৬০টি বাস পোশাক শ্রমিকরা ব্যবহার করবেন।’