ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে ফাস্ট গেইট এলাকায় ‘কাবিখা’ কর্মসূচির (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) ও গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি (টিআর) এর বরাদ্দ নেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা উকিল আবদুস সাত্তার ভূইয়ার সমর্থক এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও এখনও শপথ না নেওয়া সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আজ শনিবার (৮ জুন) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে ঢাকা-সিলেট ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে প্রায় ১ ঘণ্টা সবধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকে। এ সময় মহাসড়কের উভয়পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য উকিল আবদুস সাত্তার ভূইয়া তার বরাদ্দকৃত কাবিখা কর্মসূচির চাল থেকে উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের জমাদ্দারপাড়ার বিএনপির সমর্থক জুনায়েদ (২৮) কে কাবিখার চাল বরাদ্দ দেন। জুনায়েদ উকিল আবদুস সাত্তার ভূইয়া এমপি'র সমর্থক।
এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সমর্থক শাহবাজপুর ইউনিয়নের ফাস্ট গেইট এলাকার যুবদল নেতা জুয়েল (৩০)। এ নিয়ে আজ শনিবার বিকেলে যুবদল নেতা জুয়েল ফাস্ট গেইট এলাকায় উকিল আবদুস সাত্তার ভূঞার সমালোচনা করেন। এ নিয়ে আব্দুস সাত্তার ভূইয়ার সমর্থক জুনায়েদ এর প্রতিবাদ করেন।
পরে এ নিয়ে বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সমর্থকেরা সাত্তার ভূইয়ার সমর্থক ব্যবসায়ী বাবুল মিয়াকে মারধর করে। এ ঘটনার জের ধরে বিকেল ৫টার দিকে দু’দলের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মুহুর্তের মধ্যেই ঢাকা-সিলেট ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এসময় মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে মহাসড়কে বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করে উভয়পক্ষের দাঙ্গাবাজরা।
খবর পেয়ে সরাইল থানার পুলিশ ও ভৈরব ক্যাম্প থেকে র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে মহাসড়ক থেকে দাঙ্গাবাজদের সরিয়ে দিলে সন্ধ্যা ৬টা থেকে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সরাইল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উকিল আব্দুস সাত্তার ভূইয়া এমপি তার নির্বাচনি এলাকার জন্য ১৬৬ মেট্রিক টন চাল কাবিখা কর্মসূচির জন্য এবং ৫০ লাখ টাকা গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি (টিআর) হিসেবে বরাদ্দ পেয়েছেন। ইতোমধ্যেই এমপির নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন স্থানের জন্য প্রকল্প জমা দেওয়া হলেও কাবিখা ও টিআর এর টাকা বা চাল এখনও ছাড় দেওয়া হয়নি।
এ ব্যাপারে সরাইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি খুবই লজ্জার।
এ ব্যাপারে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মফিজ উদ্দিন ভূঞা বলেন, বিএনপির দুই এমপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে মহাসড়কে কিছু সময় যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি বলেন, সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১০-১২ জন আহত হয়েছেন।