২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিজিএফের চাল হয়ে গেল সাধারণ ব্যবসায়ীর!

আটক ট্র্রাকভর্তি চালব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ট্রাকভর্তি ১৪৯ বস্তা (সাড়ে পাঁচ টন) চালসহ তিন ব্যক্তিকে শুক্রবার (৭ জুন) রাতে আটকের ২৪ ঘণ্টা পর পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের নূরপুর বাজার থেকে দুস্থ মানুষদের জন্য বরাদ্দ ভিজিএফের সন্দেহে এসব চাল আটক করা হয়েছিল। পরে তা সাধারণ ব্যবসায়ীর চাল বলে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে নাসিরনগর এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এই চালের সঙ্গে জড়িত একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে জানায়, আটকের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার শনিবার রাতে পুলিশের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হয়। পরে ট্রাকটি থানা থেকে রাত ১০টার পর ছাড়পত্র পায়। এ প্রসঙ্গে জানতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হাকিম রাজার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’  

এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হওয়ার বিষয়ে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হয়। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আকাশে অনেক কথা ওড়ে। সব কথা সত্য নয়। খাদ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ভিজিএফের চাল নয় বলে নিশ্চিত হওয়ার পরপরই চালভর্তি ট্রাকটি ছেড়ে দেওয়া হয়।’

দুপুরে খাদ্য বিভাগ ছাড়পত্র দেওয়ার পর গভীর রাতে কেন ট্রাকটি ছাড়া হলো? এ প্রশ্নের কোনও উত্তর দিতে পারেননি ওসি। 

এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শামীম আহমেদ বলেন, ‘ভিজিএফের চাল ইউনিয়ন পর্যায়ে চেয়ারম্যানদের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত আমাদের দায়িত্ব। চাল বিতরণে অনিয়ম হলে সেটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।’

ইউএনও সাইফুল কবিরের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘চাল বিতরণে অনিয়ম হয়েছে কিনা এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনও তথ্য নেই। সবই গুজব।’

তাহলে একজন সাধারণ ব্যবসায়ীর চাল কেন ২৪ ঘণ্টা পর ছাড়া হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে ইউএনও বলেন, ‘এ ব্যাপারে ওসি সাহেবকে জিজ্ঞাসা করুন। কোথাও চাল নিয়ে অনিয়ম হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের নূরপুর সড়ক বাজার থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভিজিএফের সন্দেহে ট্রাকভর্তি চাল আটক করে পুলিশ। এ সময় গোকর্ণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছোয়াব আহমেদের চাচাতো ভাই নূরপুর গ্রামের বজলু মিয়ার ছেলে মো. আলাউদ্দিন (৪৫), একই গ্রামের বাসিন্দা ট্রাকচালকের সহযোগী মাসুক মিয়া (২২) এবং একই ইউনিয়নের পাঠানিশা গ্রামের ট্রাকচালক মিজান মিয়াকে (৩৮) আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন নাসিরনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পঙ্কজ দেবনাথ।

এ সময় আটককৃত চালের মালিক মো. আলাউদ্দিন ও মাসুক মিয়া জানান, তারা খোলা বাজার থেকে চালগুলো কিনেছেন। ভিজিএফের চাল কিনা সেটা তারা জানেন না। চালগুলো কোথা থেকে আনা হয়েছে– এ নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সঠিক কোনও তথ্য উদ্ঘাটন করতে পারেননি পুলিশ। পরে এ সম্পর্কে জানতে নাসিরনগর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামিউল আলিমকে ডাকা হয়। শনিবার দুপুরে থানায় এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর এসব চাল ভিজিএফের নয় বলে পুলিশকে নিশ্চিত করেন তিনি। এ সময় পুলিশ সামিউল আলিমের কাছ থেকে স্বাক্ষরযুক্ত ক্লিয়ারেন্স কপি রেখে দেয়।

 আরও পড়ুন:  নাসিরনগরে সাড়ে ৫ টন চালসহ আটকরা ছাড়া পেল