কাউন্টারে টিকিট নাই, কালোবাজারে মিলছে তিনগুণ দামে

বাংলাদেশ রেলওয়ে‘কাউন্টারে বলা হচ্ছে কোনও টিকেট নাই, আবার বিভিন্ন লোকজনের কাছে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। যে টিকিট ৪৮৫ টাকা সেই টিকিটের দাম নেওয়া হচ্ছে ১২ শ’ থেকে ১৫ শ’ টাকা। এখানে পুলিশ আছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও আছে কিন্তু কালোবাজারির সঙ্গে জড়িতদের কেউ কিছু বলছে না। এ কারণে আমরা সাধারণ যাত্রীরা টিকিট পাচ্ছি না। পেলেও গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।’
দিনাজপুর রেল স্টেশনে সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ক্ষোভের সঙ্গেই এসব কথা বলছিলেন। ঢাকার একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন তিনি। দিনাজপুরে এসেছিলেন ঈদ করতে। কিন্তু ঈদের আনন্দ তিক্ততায় পরিণত হয়েছে টিকিট না পাওয়ার দুর্ভোগে। সময়মতো কর্মস্থলে যোগ দিতে না পারলে চাকরিতে সমস্যায় পড়বেন। তাই এখন যে করেই হোক বেশি টাকা দিয়ে হলেও ঢাকায় পৌঁছতে হবে।
শুধু তিনি নন, দিনাজপুর রেল স্টেশনে আসা প্রায় সকল যাত্রীরই অভিযোগ একই। কাউন্টারে টিকিট নাই এই কথা মানতে পারলেও কালোবাজারিতে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে বেশি দামে- এই অন্যায়টি কেউ মানতে চান না। টিকিট কালোবাজারির অভিযোগের তীর সংশ্লিষ্টদের প্রতি।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার আবেদুর রহমান বলেন, ‘ঈদের আগে বাড়িতে এসেছি বাসে করে। কিন্তু বাসে যাতায়াতের ঝামেলা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য রেল স্টেশনে এসেছি। এখানে এসে দেখি আরেক ঝামেলা। টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। এখন আবার ভরসা করতে হবে বাসে।’
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার রুহুল ইসলাম জানান, ঠাকুরগাঁও, পীরগঞ্জ ও দিনাজপুর রেল স্টেশনে এসেও টিকিট পাইনি। বাধ্য হয়ে সাধ্যের বাইরে থাকলেও বিমানের টিকেট কাটতে হলো। স্ত্রী, সন্তানসহ তিনজনের বিমানের টিকেট কাটতে ১০ হাজার টাকা লেগেছে যা মেটাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। কিন্তু উপায় নেই।
দিনাজপুরসহ এই অঞ্চলে ঈদ করতে আসা ঢাকার কর্মজীবীদের কাছে ট্রেন বা বাসের টিকেট এখন সোনার হরিণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিনের পর দিন রেল স্টেশনে দাঁড়িয়ে থেকেও টিকিট পাচ্ছেন না ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীরা। লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট না পেয়ে কেউ কেউ আবার বেশি দামে টিকেট কিনছেন কালোবাজারিদের কাছ থেকে। রেলের কিছু অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ রয়েছে।
টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় দুটি মামলা হয়েছে। বেশ কয়েকজন গ্রেফতারও হয়েছে বলে জানান দিনাজপুর কোতয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) বজলুর রশীদ।
দিনাজপুর রেল স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট আনোয়ার হোসেন মঞ্জু জানান, যাত্রীর তুলনায় টিকিট সংকট রয়েছে। দিনাজপুর থেকে প্রতিদিন ঢাকায় যায় তিনটি ট্রেন। এর মধ্যে সকাল সোয়া ৯টায় ছাড়ে দ্রুতযান এক্সপ্রেস, দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস এবং রাত ১১টায় ছাড়ে একতা এক্সপ্রেস। তিনি জানান, দিনাজপুর রেল স্টেশনে ঢাকাগামী যাত্রীদের জন্য ৭৮৬টি টিকিট বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে দ্রতযান এক্সপ্রেসের জন্য ২৬০টি সিট, পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের জন্য ২৬৬টি সিট এবং একতা এক্সপ্রেসের জন্য ২৬০টি সিট। মোট বরাদ্দ করা সিটের মধ্যে ৫০ শতাংশ টিকিট অর্থাৎ ৩৯৩টি দেওয়া হয় কাউন্টার থেকে। বাকি ৩৯৩টি টিকিট দেওয়া হয় অনলাইনের মাধ্যমে। অথচ প্রতিদিন প্রায় ৫ শতাধিক যাত্রী কাউন্টারে টিকিট কিনতে আসেন। তাই অধিকাংশ যাত্রীকেই টিকিট দেওয়া সম্ভব হয় না। কালোবাজারিতে টিকিট বিক্রির কথা অস্বীকার করে তিনি জানান, আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত ঢাকাগামী ট্রেনের কোনও টিকিট নাই।