শাহবাজপুরে বেইলি ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু, যান চলাচল করতে পারবে দুই দিন পর

 

শাহবাজপুর সেতু ভেঙে যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে তিতাস সেতুর রেলিং ভেঙে পড়ার চারদিন পর সেখানে বেইলি ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। শনিবার বেলা ১২টার দিকে কাজ শুরু হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেতুটি যাত্রী নামিয়ে খালি যানবাহন পারাপার উপযোগী করতে দুই থেকে তিনদিন লাগবে। আট থেকে ১০ দিন পর যাত্রীসহই যানবাহন চলাচল করতে পারবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম আল মামুন এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বেইলি ব্রিজ নির্মাণের সরঞ্জাম শুক্রবার দুপুরে শাহবাজপুর সেতু এলাকায় এসে পৌঁছায়। বিকালে একটি এক্সকেভেটরের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর ওপর অংশের সুরকি ও বালি অপসারণ করা হয়। আজ শনিবার দুপুর থেকে বেইলি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।’

গত মঙ্গলবার (১৮ জুন) শাহবাজপুর সেতুর রেলিংসহ ফুটপাথ ভেঙে পড়ে। এ কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসসহ মাঝারি ও ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিকল্প সড়ক হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর-সরাইল ও হবিগঞ্জের লাখাই-হবিগঞ্জ-শায়েস্তাগঞ্জ সড়ক ব্যবহার করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে সব যান চলাচল করতে বলা হয়েছে। কিন্তু ওই সড়কগুলো সংকুচিত ও ভাঙাচোরা হওয়ার কারণে মালবাহী ট্রাক ও বড় বাস চলতে অসুবিধা হচ্ছে। ভাঙা যায়গায় ট্রাক উল্টে বেশ কয়েকবার রাস্তাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে আটকাপড়া যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা।  

ঢাকা থেকে আম নিয়ে সিলেটগামী ট্রাকের ড্রাইভার ওয়াজেত আলী জানান, ‘চারদিন ধরে মহাসড়কে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি। গাড়িতে থাকা আমগুলোতে পচন ধরতে শুরু করেছে।  কী করবো বুঝতে পারছেন না। বিকল্প যে পথে যেতে বলা হচ্ছে সেখানেও যানজট। মালিকের পক্ষ থেকে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে কখন গাড়ি নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাবো। খাওয়া-দাওয়াও বেশ সমস্যা হচ্ছে।’

একই পথে ঢাকা থেকে পেঁয়াজ নিয়ে সিলেট যাচ্ছিলেন ট্রাক চালক ফারুক। তিনি জানান, ‘পেঁয়াজ নিয়ে সিলেট যাবো। অথচ গত বুধবার থেকে রাস্তায় পড়ে আছি। কী করবো বুঝতে পারছি না। কবে সড়ক চালু হবে সেটাও কেউ সঠিক করে বলছে না। বিকল্প সড়ক হিসেবে নাসিরনগর -লাখাই সড়কে যেতে বলা হয়েছে। সেই সড়কে ট্রাকের চাকা দেবে গিয়ে মাঝে মাঝে জ্যাম সৃষ্টি হচ্ছে। কোনও দিকেই যাওয়া যাচ্ছে না।’

বাস চলাচল না করায় দূর পাল্লার যানবাহনের চালকদের ভোগান্তির মাত্রা অনেকটাই বেড়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগর থেকে ঢাকাগামী শামীম আহেম্মদ জানান, ‘বাস নেই। ইসলামপুর থেকে পায়ে হেঁটে প্রায় ১০কিলোমিটার শাহবাজপুর এসেছি। কীভাবে যাবো উপায় খুঁজে পাচ্ছি না।’ 

ঢাকা থেকে সিলেটগামী যাত্রী সিরাজুল ইসলাম জানান, ‘ঢাকা থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসে এসেছি। এর পর বিশ্বরোড থেকে নেমে অন্তত ১২ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে শাহবাজপুর এসেছি। কোনও যানবাহন চলাচল করছে না। এটা যে কী পরিমান ভোগান্তি, বলে শেষ করা যাবে না।’  

ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হোসেন সরকার জানান, ‘আমরা চেষ্টা করছি রাস্তার একপাশে যেন যানজট না থাকে। প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাসগুলো যেন অন্তত স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে। কিন্তু এ কাজ করতে গিয়ে বেশ হিমশিম খাচ্ছেন হাইওয়ে পুলিশ সদস্যরা।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার  তবে জরুরি প্রয়োজনে প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসকে সেতুর একপাশ দিয়ে যেতে দেওয়া হচ্ছে। না জেনে এই পথে এসে আবার ঘুরে যাওয়ায় এই রুটে চলাচলকারী যানবাহন এবং যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

আরও পড়ুন- শাহবাজপুর সেতুতে ভাঙন: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুর্ভোগ