তিন বাস শ্রমিকের বিরুদ্ধে কলেজছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

শরীয়তপুরশরীয়তপুরে এক কলেজছাত্রীকে (১৬) সারারাত আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার রাতে সদর উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটলেও মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পালং থানায় মামলা করেন ভিকটিমের বাবা।

ধর্ষণের অভিযুক্তরা হচ্ছে বাস শ্রমিক ইসলাম ফকির (২২), রাকিব মণ্ডল (২২) ও সবুজ রাঢ়ি (২২)। ইকবাল (২১) নামের একজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে রাকিব মণ্ডলকে আটক করেছে পুলিশ।

পালং মডেল থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্যাতনের শিকার মেয়েটি জাজিরা উপজেলার বাসিন্দা ও স্থানীয় একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। রবিবার বিকালে মেয়েটি তার এক আত্মীয়ের বাসায় যাওয়ার জন্য মাদারীপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়। রাস্তায় শরীয়তপুর পৌর বাসস্ট্যান্ডে আসার পর মেয়েটির সঙ্গে তার পূর্বপরিচিত বাস শ্রমিক ইসলাম ফকিরের দেখা হয়। ইসলাম ফকির মেয়েটিকে তার আত্মীয়ের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে বন্ধু রাকিব, সবুজ ও ইকবালের সহায়তায় মধ্যপাড়া গ্রামে রাকিবের বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে রাকিব, সবুজ ও ইসলাম ফকির মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করে তার পরিবারকে খবর দেন এবং শ্রমিক নেতাদের বিষয়টি জানান।

শ্রমিক নেতারা প্রথমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও মঙ্গলবার বিকালে এক শ্রমিক নেতা রাকিবকে বাসস্টান্ড থেকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে ভিকটিম ও তার পরিবারকে থানায় আনার ব্যবস্থা করে। পরে মেয়েটির বক্তব্যের ভিত্তিতে ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে চার বাস শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। বুধবার দুপুরে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

ভিকটিমের বাবা বলেন, ‘তারা আমার মেয়ের সর্বনাশ করেই ক্ষান্ত হয়নি। বিষয়টি কাউকে জানালে দেখে নেওয়ারও হুমকি দিয়েছিল।’

পালং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, ‘তিন পরিবহন শ্রমিক মিলে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেছে। একজন এই কাজে সহায়তা করেছে। এর মধ্যে ধর্ষণে অভিযুক্ত একজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’