বরিশাল ও ঝালকাঠি মালিক সমিতির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে খুলনা-বরিশাল রুটে চলাচল করা ধানসিঁড়ি পরিবহনের ৫০টি যাত্রীবাহী বাস ১৯ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে এই রুটের নিয়মিত যাতায়াত করা হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
শনিবার (৬ জুলাই) দুপুরে বাগেরহাট ও খুলনার পাঁচটি বাস মালিক সমিতি জরুরি সভা শেষে এই তথ্য জানানো হয়। বাগেরহাট আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রশাসন যদি দুই মালিক সমিতির চলমান দ্বন্দ্ব নিরসন না করে তাহলে দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা-বরিশাল রুটে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে সাতটি বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে।
এদিকে শনিবার দুপুরে বাগেরহাট থেকে বরিশালগামী একাধিক যাত্রী রাস্তায় তাদের ভোগান্তির কথা বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রামপাল থেকে আসা যাত্রী গোলাম মোস্তফা জানান, তিনি জরুরি কাজে বরিশাল যাবেন। কিন্তু এসে দেখেন বাস কাউন্টার বন্ধ। আর বরিশালে বাস যাচ্ছে না। এজন্য তাকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে।
বাগেরহাট আন্তঃজেলা পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তালুকদার আব্দুল বাকি সাংবাদিকদের বলেন, ‘খুলনা-বরিশাল এই রুটে প্রতিদিন ৫০টির মতো গাড়ি চলাচল করে থাকে। এসব বাসে প্রতিদিন দক্ষিণাঞ্চলের বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠি এবং বরিশালের কয়েক হাজার যাত্রী যাতায়াত করে। এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের যোগাযোগের জন্য এই রুটটি সবচেয়ে সহজ। খুলনা-বরিশাল রুটের বরিশাল ও ঝালকাঠি পরিবহন মালিক সমিতির দ্বন্দ্বের কারণে ধানসিঁড়ি পরিবহনটি গত ১৯দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে এই এলাকার যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’ সমস্যা নিরসনে খুলনা ও বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।
মহিষপুরা- খুলনা আন্তঃজেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি মাসুদুর রহমান বলেন, প্রায় ১৯দিন যাত্রী পরিবহন করা বাস বন্ধ থাকায় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। এই রুটে যাতায়াত করা হাজার হাজার যাত্রীকে ভেঙে ভেঙে যাতায়াত করতে হচ্ছে। মালিক সমিতির চলমান দ্বন্দ্ব অবিলম্বে নিরসন না করলে আগামী ১৫ দিন পরে আমাদের সাতটি মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠন খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সব রুটে যান চলাচল বন্ধ করে দেবো।
বরিশাল-পটুয়াখালী বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেন লিপন বলেন, ঝালকাঠি মালিক সমিতির খামখেয়ালিপনার কারনে গত ১৯ দিন ধরে খুলনা-বরিশাল রুটে ধানসিঁড়ি পরিবহনের অন্তত ৫০টি বাস বন্ধ রয়েছে। সমস্যা নিরসনে সাতটি বাস মালিক সমিতি সভা করে বিভাগীয় কমিশনারসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন কোনও উদ্যোগ না নেয়ায় গাড়ি চলাচল সাময়িক বন্ধ রয়েছে।
ঝালকাঠি জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মাহবুবুল হক দুলাল বলেন, গত ২৪ জুন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে দুরপাল্লার যাত্রী পরিবহন করা নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত হয়। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বরিশাল ও পিরোজপুর গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। তাই প্রশাসনকে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।