ফেনীর সোনাগাজীতে নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়েছিলেন তার ছোট ভাই রায়হান। সেসময় তিনি আদালতকে বলেন, ‘হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোনাগাজীর মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনা এবং শাহাদাত হোসেন শামীমের প্রেম প্রত্যাখ্যান করার কারণে আসামিরা আপুকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে।’
সোমবার (৮ জুলাই) ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে এসব কথা বলেছেন রায়হান।
আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা নুসরাত জাহান রাফির ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হানকে জেরা করেন। জেরার সময় আইনজীবীরা দাবি করেন, মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাসহ অন্যান্য আসামিরা নির্দোষ। তাদের অভিযোগ, রায়হানকে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে আাদলতে নুসরাত হত্যার মূল কারণ দুটি বলে জানিয়েছেন নুসরাতের ছোট ভাই রায়হান।
পাবলিক প্রসিকিউটর হাফেজ আহাম্মদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, নুসরাত হত্যার মামলার ৯ নম্বর সাক্ষী তার ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হানকে সাক্ষ্য শেষে আসামি পক্ষের ১৬ আসামির আইনজীবিরা জেরা করেন।
মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বেলা ১১টায় মামলার ১০ ও ১১ নম্বর সাক্ষী জহিরুল ইসলাম ও বেলায়াতে হোসাইনের সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য তারিখ ধার্য রয়েছে ।
প্রসঙ্গত, সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে ৬ এপ্রিল গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে মারা যার তিনি। এই ঘটনায় নুসরাতের ভাই নোমান বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়। সেই মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলছে।