সাক্ষ্য প্রদানকালে মো. জহির উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনার দিন (৬ এপ্রিল) নুসরাতকে আগুনে ঝলসে দেওয়ার পরপরই দোকানের সামনে নুর উদ্দিনকে ঘোরাঘুরি করতে দেখেছি। এ সময় তাকে দেখে মনে হয়েছে, নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার সময় সে ঘটনাস্থলেই ছিল। পরে জানতে পেরেছি সে সেখানে ছিল।’
আরেক সাক্ষী বেলায়ায়েত হোসেন বলেন, ‘নুসরাতকে আগুনে ঝলসে দেওয়ার দিন কামরুন নাহার মণি পরীক্ষার হলে দেরিতে ঢুকেছে।’
তাদের সাক্ষ্য দেওয়া শেষে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত আদালত মুলতবি করা হয়। এর আগে সকালে এই মামলার প্রধান আসামি সিরাজ উদ্দৌলাসহ ১৬ আসামিকেই সকালে আদালতে হাজির করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু সাংবাদিকদের বলেন, ‘বুধবার মামলার দশম দিনে নুসরাতের মা শিরিন আক্তার ও সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক আবুল খায়ের সাক্ষ্য দেবেন।’
এ নিয়ে মামলার মোট ১১ জন সাক্ষ্য দিলেন। এর আগে সোমবার সাক্ষ্য দিয়েছেন নুসরাতের ছোটভাই রাশেদুল হাসান রায়হান।
পাবলিক প্রসিকিউটর হাফেজ আহাম্মদ জানান, ২৭ ও ৩০ জুন মামলার বাদী ও নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানকে জেরার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।এর পর মঙ্গলবার পর্যন্ত একে একে মোট ১১ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এর আগে ২৯ মে আদালতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করে। ৩০ মে মামলা ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে স্থানান্তর হয়। ১০ জুন মামলাটি আমলে নিয়ে শুনানি শুরু হয়। ২০ জুন অভিযুক্ত ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বিচারিক আদালত।
প্রসঙ্গত, সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে ৬ এপ্রিল গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই নোমান বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) স্থানান্তর করা হয়।