লাকসামে ধর্ষণের অভিযোগে ভুয়া চিকিৎসক আটক

অভিযুক্ত মীর হোসেন

কুমিল্লার লাকসামে ধর্ষণের অভিযোগে মীর হোসেন নামে এক ভুয়া চিকিৎসককে আটক করেছে র‌্যাব। সে লাকসামের জংশন এলাকায় ডিজিটাল হেলথ কেয়ারের মালিক এবং বাইনচাটিয়া গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে।

বুধবার (১০ জুলাই) কুমিল্লা র‌্যাব-১১ মীর হোসেনের ক্লিনিক ও চেম্বারে অভিযান চালিয়ে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, কনডম এবং বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্যসহ তাকে আটক করে।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, লাকসামের জংশন এলাকায় ডিজিটাল হেলথ কেয়ারে চার মাস ধরে স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে চাকরি করে আসছিলেন এক নারী। চাকরির শুরু থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল প্রতিষ্ঠানটির মালিক ডা. মীর হোসেন। র‌্যাবের কাছে ওই নারী অভিযোগ করেন—‘চাকরিতে যোগদানের একপর্যায়ে ডা. মীর হোসেন আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। চার মাসে সে আমাকে ৩০ বারের বেশি ধর্ষণ করেছে। প্রতিবারই ধর্ষণের পর সে আমার শরীরে ব্যথানাশক অজ্ঞাত একটি ইনজেকশন পুশ করতো।’

ভুক্তভোগী এই নারী আরও জানান, ধর্ষণের পর মীর হোসেন হুমকি দিয়ে বলতো, এ ঘটনা কাউকে জানালে তাকে চাকরিচ্যুত করা হবে। এমনকি মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখায়।

ওই নারী বলেন, ‘আমি দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম হওয়ায় তার এ নির্যাতন সহ্য করে আসছিলাম। কিন্তু দিন দিন তার অত্যাচার বেড়ে চলায় নিরুপায় হয়ে সোমবার (৮ জুলাই) কুমিল্লা র‌্যাব-১১ এর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।’

র‌্যাব জানায়, মীর হোসেন একজন ভুয়া চিকিৎসক। এ কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত বেশ কয়েকবার তার ক্লিনিক ও চেম্বার বন্ধ করে দেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে কিছু দিন পর আবারও সে কৌশলে চেম্বার খুলে বসে।

কুমিল্লা র‌্যাব-১১ এর কোম্পানি কমান্ডার প্রণব কুমার জানান, ওই নারীর লিখিত অভিযোগ পেয়ে আমরা লাকসাম ডিজিটাল হেলথ কেয়ারের মালিক ডা. মীর হোসেনের চেম্বারে অভিযান চালাই। সেখান থেকে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, কনডম ও বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য জব্দ করা হয়।

র‌্যাবের কর্মকর্তা প্রণব কুমার বলেন, ‘মীর হোসেন কোনও চিকিৎসক নয়। সে চাকরি দেওয়ার নামে তার চেম্বারে এনে আরও অনেক নারীকে ধর্ষণ করেছে। তাকে ও তার চেম্বারে কর্মরত অন্য এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে র‌্যাব-১১ কার্যালয়ে আনা হয়েছে।’