গত ২ জুলাই দুপুরে কারখানাটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট রাত সোয়া ১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নেভাতে গিয়ে ছয়জনের প্রাণহানি ঘটে।
শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রামপ্রসাদ পাল জানান, কারখানাটি আগে থেকেই অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কারখানা চালুর পর ফায়ার সার্ভিস থেকে কোনও অগ্নিমহড়া করানো হয়নি। একবার প্যাকেজ ট্রেনিং করানোর কথা বললেও কোনও ডকুমেন্ট দেখাতে পারেননি কারখানা কর্তৃপক্ষ। প্রতিবছর সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানিয়ে কমপক্ষে দুইবার অগ্নিমহড়া করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া অভ্যন্তরীণভাবে মাসে একবার কারখানার নিজস্ব তত্ত্বাবধানে অগ্নিমহড়ার বিধান রয়েছে। তিনি বলেন, কারখানাটিতে পুকুর বা পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা ছিল না। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর দিয়ে ওপাশ থেকে পানি সরবরাহ করা হয়েছে।
কারখানার শ্রমিকেরা জানান, কারখানায় অগ্নিমহড়া হয় না। কারখানাটিকে আমরা নিজেদের প্রতিষ্ঠান মনে করেছি। তা মনে করেই অপ্রশিক্ষিত হয়েও আমাদের সহকর্মীরা আগুন নেভাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। প্রথমদিকে দমকল কর্মীরা আগুন নেভাতে তেমন সক্রিয় ছিল না।
শ্রমিকদের অন্য জায়গায় চাকরি নিতে বলেছে কর্তৃপক্ষ
মঙ্গলবার কারখানায় গিয়ে দেখা গেছে, শ্রমিকেরা বেতন-ভাতা নিচ্ছেন। মোসলিমা নামে ফিনিশিং বিভাগের একজন শ্রমিক বলেন, ‘জুন মাসের বেতন দিয়ে কর্তৃপক্ষ অন্য জায়গায় চাকরি নিতে বলেছে। সামনে ঈদ, বাসা ভাড়া, দোকানের বকেয়া কীভাবে শোধ করবো ভেবে পাচ্ছি না। হঠাৎ করে কোথাও চাকরি পাচ্ছি না। পরিবার পরিজন নিয়ে কীভাবে চলবো।’
এসব বিষয়ে কারখানার মহাব্যবস্থাপক হারুন অর রশীদ বলেন, ‘কারখানায় নিয়মিত অগ্নিমহড়া হয়। অগ্নিনিরাপত্তায় ঝুঁকি থাকলে আমরা মেশিনপত্র, কাঁচামাল সংগ্রহ করতে পারতাম না। শ্রম আইনের বিধি মোতাবেক শ্রমিকদের বেতন দেওয়া হচ্ছে। এটি একটি অগ্নিদুর্ঘটনা, আমরা কাউকে জোর করে চাকরি ছেড়ে দিতে বলছি এ রকম নয়। কারখানার একটি ইউনিট পুড়ে গেছে। আরেকটি ইউনিট দিয়ে ভবিষ্যতে উৎপাদনে যাওয়ার চেষ্টা করবো। তবে বেশ কয়েক মাস সময় লাগবে।’