পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে ৪৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ১৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং নুনখাওয়া পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ২১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেলেও বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে নদী তীরবর্তী এলাকার গ্রামগুলো। কয়েকদিন ধরে পানি কমতে থাকায় আশ্রয়কেন্দ্র ও বাঁধের রাস্তা থেকে অনেকে বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছিলেন। এখন আবার দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। অনেকে আবারও বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু বাঁধ ও আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিচ্ছেন।
উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন জানান, তার ইউনিয়ন আবারও পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গত দুই তিন দিনে কিছু বাড়িঘর থেকে পানি নেমে গেলেও আবারও সেসব বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করছে। ইউনিয়নের সবকটি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
ব্রহ্মপুত্র তীরে অবস্থিত কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব আলী সরকার জানান, ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়তে থাকায় তার এলাকার চরাঞ্চলগুলোর বসতবাড়িতে আবারও পানি উঠতে শুরু করেছে। পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে এসব পরিবার মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে জানান এই চেয়ারম্যান।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, ‘দুই দিন ধরে বৃষ্টিপাতের ফলে জেলার নদনদীর পানি কিছুটা বেড়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) বিকাল পর্যন্ত বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও শুক্রবার থেকে তা আবারও কমতে শুরু করবে বলে আশা করছি।’
জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বন্যায় কুড়িগ্রামের ৯ উপজেলায় ৯ লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বাড়িঘর থেকে পুরোপুরি পানি নেমে না যাওয়ায় এখনও অনেকে উঁচু রাস্তা ও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। বন্যার পনি প্রবেশ করায় এক হাজার ২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১৩শ’ ৩৩ কিলোমিটার সড়ক। এছাড়াও নদী ভাঙনে ১৮শ’ ৫৩টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন- দেশের একদিক বন্যায় প্লাবিত, অন্যদিকে বৃষ্টির অভাবে চাষাবাদ ব্যাহত