নওগাঁর ওপর দিয়ে ছয়টি নদী বয়ে গেছে। তার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য আত্রাই ও ছোট যমুনা নদী। সম্প্রতি এই দুই নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে জেলার মান্দা, ধামইরহাট, আত্রাই ও রাণীনগর উপজেলার কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। আউশ-আমন ধানের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধানের বীজতলা, মরিচ, পটল, তরীর জমিসহ অন্যান্য ফসলের মাঠ। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মরে যাচ্ছে মরিচ, করলা, পটল ও তরীসহ অন্যান্য ফসল। পাট খেতে বন্যার পানি জমে থাকার কারণে পচে যাচ্ছে পাট। এই আবাদগুলোই কৃষকদের একমাত্র সম্বল। এই খেতের আবাদের ওপরই চলে বেশিরভাগ কৃষকের সংসার। তাই বন্যার পানিতে সম্বল হারিয়ে দিশেহারা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
অন্যদিকে কয়েকদিন আগে এই দুই নদীর পানি উল্লেখ্যযোগ্য হারে কমলেও গত দুইদিনের ভারী বর্ষণের কারণে আবার নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে এই দুই নদীর পানি। এতে আতঙ্কে হয়ে পড়েছেন বন্যাকবলিত এলাকার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ।
আত্রাইয়ের কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, ‘কাঁচা মরিচ, পটল, ধানের বীজতলাসহ কয়েকটি খেত বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। মাঠের পানি না কমায় নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে পারছি না। আর মরিচের খেত থেকে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে গাছগুলো মরে যাচ্ছে।’
মান্দার কৃষক সুলতান আলম বলেন, ‘চার বিঘা সবজি খেত এখন বন্যার পানির নিচে। বন্যার পানিতে সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কী করে চলবে সংসার।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মাহাবুবার রহমান বলেন, ‘বন্যার পানিতে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল আংশিক নিমজ্জিত হয়েছে। তবে কিছু কিছু এলাকার ফসল সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হওয়ায় সেই সব এলাকায় ক্ষতির পরিমাণ একটু বেশি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারের তরফ থেকে সহায়তা করার কোনও সংবাদ এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে নেই।’
আরও পড়ুন- ১১ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি এখনও ভয়াবহ, বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট