শনিবার (২৭ জুলাই) কুমিল্লার কোটবাড়িতে অবস্থিত বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির ৫২তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের পরিমাণ কমিয়ে আনতে ও মশা নিধনে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রাতদিন কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশব্যাপী মশা নিধন সপ্তাহ চলছে। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যন্ত মশা নিধনের এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘এডিস মশা এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আমাদের জনসচেতনতা প্রয়োজন। ঘরের ছাদ, ফুলের টব এবং বাড়ির আঙিনায় জমে থাকা পরিষ্কার বৃষ্টির পানি থেকে এই এডিস মশা জন্ম নেয়। জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে এসিড মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করতে হবে। বাথরুমের কমোডে জমে থাকা পানিতেও এডিস মশা জন্মায়। সে জায়গায় সিটি করপোরেশনের কাজ করার সুযোগ কম, তবে আপনাদের অনেক বেশি। আমরা মনে করি আমাদের জনগণ সচেতন হলে এডিস মশা জন্মাবে না এবং ডেঙ্গু আক্রান্তের পরিমাণও কমে আসবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ যে পরিমাণ ঘনবসতিপূর্ণ দেশ এবং সার্বিক দিক থেকে আমাদের সমসাময়িক দেশগুলোর তুলনায় সঙ্গতিও কম। এ কারণে এডিস মশা ও ডেঙ্গু রোগ নিয়ন্ত্রণে আমরা চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করছি। আমাদের সমসাময়িক দেশগুলোর ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের অভিজ্ঞতা থাকার পরও ফিলিপাইনে ৩০৩ জন মারা গেছে। থাইল্যান্ডের বর্তমান তথ্য অনুসারে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। এছাড়াও মালয়েশিয়ায় ২৬ হাজার, সিঙ্গাপুরে ১৩ হাজার এবং ভারতেও প্রায় ১৫-২০ হাজার মানুষ ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত।’
বার্ডের লালমাই অডিটোরিয়ামে দুইদিন ব্যাপী ৫২তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বার্ডের মহাপরিচালক ড. এম. মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু, জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর, সম্মেলনের আহ্বায়ক ও বার্ডের পরিচালক মিলন কান্তি ভট্টাচার্য ও বার্ডের পরিচালক (প্রশাসন) ড. মো. শফিকুর ইসলামসহ বার্ডের বিভিন্ন কর্মকর্তারা।