রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ১৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৪ জনে। এদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে হাসপাতালের পরিচালক জানিয়েছেন।
রোগীদের প্রায় সবাই ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে রংপুরে ফিরেছেন। এদের বেশিরভাগই বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং করতে যাওয়া ছাত্র এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে কয়েকজন চাকরিজীবীও রয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর একটু সুস্থ হলে নিজ নিজ বাড়িতে চলে এসেছেন তারা। এরপর আবারও জ্বর বাড়ায় তারা রমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এদিকে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের সাধারণ রোগীদের সঙ্গে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে। এমনকি দু’জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতালের বারান্দায় অন্যান্য রোগীদের সঙ্গে রাখা হয়েছে। এদিকে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা কোনও ব্যবস্থা না করে সাধারণ রোগীদের পাশে তাদের থাকতে দেওয়ায় অন্য রোগীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ কিংবা তাদের চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে আলাদা কোনও মনিটরিং কমিটি গঠন করেনি।
সরেজমিন হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, তিন নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডে সাধারণ রোগীদের সঙ্গেই ডেঙ্গু রোগীদের রাখা হয়েছে। তাদের অনেককে মশারি টাঙিয়ে রাখা হলেও সাধারণ রোগীদের সঙ্গে রাখা হয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সোহেল খন্দকার জানান, ঢাকায় বেশ কয়েকদিন জ্বর ছিল। সে কারণে রংপুরে নিজ বাড়িতে চলে আসেন। বাড়িতে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়ায় রবিবার রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনি।
তিনি জানান, হাসপাতালে তাদের অমানবিকভাবে রাখা হয়েছে। এভাবে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়বে।
ঢাকার উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নগরীর নুরপুরের বাসিন্দা ফজলুল হক জানান, ঢাকায় ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর বাসায় চলে আসেন। রক্তের প্লাটিলেট কমে যাওয়ায় সোমবার আবারও এখানে ভর্তি হয়েছেন তিনি।
ঢাকায় ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিতে চাকরিরত মিঠাপুকুরের পরিতোষ কুমার জানান, ঢাকায় যে এলাকায় তিনি থাকতেন সেখানে ভয়াবহভাবে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ শুরু হওয়ায় বাসায় চলে আসেন। এরপর তিনিও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ভাবেই বেশিরভাগ রোগী ঢাকায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে।
এদিকে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধ ও রক্ত পরীক্ষার কোনও ব্যবস্থা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনও করেনি। ফলে বাইরে ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে গিয়ে এক থেকে দেড় হাজার টাকা দিয়ে রক্ত পরীক্ষা করতে হচ্ছে বলে রোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন।
তবে, জ্বর নিয়ে আরও ৩০ জন রোগী ভর্তি হলেও তারা ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন কিনা রক্ত পরীক্ষার বিশেষ কিট হাসপাতালে না থাকায় তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ডেঙ্গু রোগী বলে নিশ্চিত করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে লক্ষণ দেখে তাদের ডেঙ্গুরোগী বলেই ভাবছেন চিকিৎসকরা। এমন রোগী আরও বাড়তে পারে এ আশঙ্কাও আছে তাদের।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. সুলতান আহাম্মেদ জানিয়েছেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন হাসপাতালে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় রোগীদের আলাদা ভাবে রাখা যাচ্ছে না, তারপরেও চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষার কোনও ব্যবস্থা না থাকার কথাও স্বীকার করেন।