ডেঙ্গুতে যারা মারা গেছেন তারা হলেন ফতুল্লার বক্তাবলী এলাকার জসিম উদ্দিনের ছেলে শান্ত মিয়া, ইসদাইরের শাওন কবির সাহেলীন, ফতুল্লার দেওপাড় এলাকা স্কুলশিক্ষক বেলাল মিন্টু।
জেলা সিভিল সার্জন জানান, বুধবার নারায়ণগঞ্জের দুটি সরকারি হাসপাতালে দুইজন এবং ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে একজনসহ মোট তিনজন নতুন রোগী ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া খানপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৯ জন এবং ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরও চারজন। বাকিদের মধ্যে নগরীর ডনচেম্বার এলাকায় বেসরকারি ক্লিনিক মেডিস্টাল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন পাঁচ জন এবং নগরীর উকিলপাড়া এলাকায় পলি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন ছয় জন ডেঙ্গু রোগী। জেলার আরও বেশ কয়েকটি হাসপাতালে বেশ কয়েকজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘গত এক মাসে নারায়ণগঞ্জের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে প্রায় ৭০ জন ডেঙ্গুরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। যে তিনজন মারা গেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে তারা কেউ নারায়ণগঞ্জে মারা যাননি। তারা ঢাকায় অবস্থান করার সময় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারাও গেছেন ঢাকার হাসপাতালে।’
বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি ডা. শাহনেওয়াজ বলেন, ‘আমরা যেখানেই যাচ্ছি মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন, ফুলের টব বা অন্য কোথাও যেন কোনও অবস্থায়ই পানি জমে থাকতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখুন। এডিস মশা দিনের আলোতে বিকালের দিকে বেশি কামড়ায়। সেজন্য বিকালে না ঘুমানোর পরামর্শ দিচ্ছি। পাশাপাশি মশারি বা মশার স্প্রে ব্যবহার করে ঘর থেকে মশা তাড়ানোর জন্য বলছি।’
সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজি জানান, ডেঙ্গু থেকে পরিত্রাণ পেতে নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় জেলা সিভিল সার্জনের অফিস থেকে প্রায় পাঁচ হাজার লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন করার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।