বকশীগঞ্জে বিলেরপাড় গ্রামের ৬০ ভাগ মানুষ পানিবন্দি

ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাজামালপুরের বকশীগঞ্জে ভয়াবহ বন্যায় লন্ডভন্ড হয়ে গেছে বিলেরপাড় নামে একটি গ্রাম। বন্যায় এই গ্রামের ৬০ ভাগ মানুষ এখনও পানিবন্দি। স্রোতের তোড়ে রাস্তা-ঘাট ভেঙে খালের সঙ্গে একাকার হয়ে যাওয়ায় নৌকায় করে চলাচল করতে হচ্ছে এই গ্রামের মানুষদের। বন্ধ রয়েছে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত। অসহনীয় দুর্ভোগে এখানকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

বুধবার (৩১ এপ্রিল) এলাকাবাসী জানায়, সাধুরপাড়া ইউনিয়নে অবস্থিত বিলেরপাড় গ্রাম অন্যান্য গ্রামের চেয়ে অনেকটাই অবহেলিত। এই গ্রামে এখনও বিদ্যুৎ পৌঁছেনি। এখনও পাকা হয়নি প্রধান রাস্তাটি। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে পুরো গ্রাম। স্রোতের তোড়ে রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় হেঁটে চলার মতোও অবস্থা নেই। নৌকা দিয়ে কোনও রকমে পার হচ্ছেন এই গ্রামের মানুষ। রাস্তায় খাল তৈরি হওয়ায় শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। এই গ্রামের মানুষ দ্রুত তাদের প্রধান রাস্তাটি মেরামতের দাবি জানিয়েছেন।

বিলেরপাড় গ্রামের শালু মিয়া জানান, এখনও তার ঘরের চারদিকে মাথাসমান পানি রয়েছে। ঘর থেকে বের হলে নৌকা ছাড়া চলা সম্ভব নয়।

তাইরুল হাসান মাস্টার বলেন, ‘গ্রামের প্রধান রাস্তাটি বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়ায় মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমরা কোথাও যেতে পারছি না।’ তিনি অবিলম্বে রাস্তাটি মেরামতের দাবি জানান।

এই গ্রামের ব্যবসায়ী হাজী কিংরাজ জানান, স্থানীয় একটি বাজারে তিনি সার-বীজের ব্যবসা করেন। প্রতিদিনই পানিতে সাঁতরে তাকে বাজারে যেতে হচ্ছে।

বন্যায় বিলেরপাড় গ্রামের একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়টিরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এদিকে রাস্তাঘাট চলার উপযোগী না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু বলেন, ‘বন্যায় এই গ্রামের প্রধান রাস্তাটি পুরোটাই ভেঙে যাওয়ায় মানুষের খুবই দুর্ভোগ শুরু হয়েছে। পানি নেমে গেলে দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাসান মাহবুব খান জানান, সব ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার তথ্য নেওয়া হচ্ছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।