ফাও কোক দিতে রাজি না হওয়ায় গাড়িচালককে বোতল দিয়ে পিটিয়ে হত্যা

নারায়ণগঞ্জনারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় ফাও কোক না দেওয়ায় তোফাজ্জল হোসেন (৫৫) নামে কোকাকোলা কোম্পানির এক কাভার্ডভ্যান চালককে কোকের বোতল দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের চাষাঢ়া বালুর মাঠ এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় শাজাহান নামে অভিযুক্ত এক যুবককে পুলিশ আটক করেছে। তবে ঘটনার পর থেকে মূল অভিযুক্ত যুবক সুমন পলাতক রয়েছে।

নিহত তোফাজ্জল হোসেন (৫০) শহরের খানপুর রেললাইন এলাকার বাসিন্দা ও মৃত মোসলেম চৌধুরীর ছেলে। গত এক বছর যাবত তিনি কোকাকোলা কোম্পানির নারায়ণগঞ্জ শহরের ডিস্ট্রিবিউটর শাখার গাড়িচালক হিসেবে কাজ করে আসছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহত তোফাজ্জলের সঙ্গে থাকা কোকোকোলা কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি সৌরভ জানান, চাষাঢ়ায় বিভিন্ন দোকানে মালামাল সরবরাহ করে কাভার্ডভ্যান নিয়ে বালুরমাঠ এলাকায় প্রবেশ করেন তারা। এসময় রডের দোকান রাজা স্টিলের মিলের সামনে ওই দোকানের কর্মচারী শাজাহান ও পাশের দোকান রায়হান স্টিল মিলের মালিকের ভাই সুমন তাদের গাড়িটি থামায়। এসময় সুমন কাভার্ডভ্যান চালক তোফাজ্জলের কাছে বিনামূল্যে কোকাকোলা খেতে চায়। তোফাজ্জল এতে রাজি না হওয়ায় সুমন ও শাজাহন মিলে তার কাভার্ডভ্যান থেকে কোকাকোলার বোতল নিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর অবস্থায় তোফাজ্জলকে শহরের খানপুরে ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে সদর মডেল থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদরের জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহতের ছোট ছেলে মো. সাকিব হোসেন বলেন, ‘কোনও কারণ ছাড়াই আমার বাবার মতো নিরীহ লোককে পিটিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসী দুই দোকানি। বাবার রোজগারের ওপর আমাদের সংসার চলতো।’ তিনি তার বাবার হত্যাকারী সুমন ও শাহজাহানের দ্রুত গ্রেফতার করে দুষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা উপপরিদর্শক রিপন আলী খান, ‘নিহতের শরীরে বোতল দিয়ে পিটিয়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত দুইজনের মধ্যে একজনকে আটক করা হলেও সুমন নামে মূল অভিযুক্ত যুবক এখনও পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’