এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রংপুর থেকে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বিআরটিসির অর্ধশতাধিক যাত্রীবাহী বাস লক্কর-ঝক্কর। ফিটনেস, রুট পারমিটসহ কাগজপত্র নেই এসব বাসের। ফলে প্রতিনিয়ত বাসগুলো দুর্ঘটনার মুখে পড়ছে। গত দু’ বছরে বিআরটিসির এই বাসগুলোর দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪৫ জন যাত্রী। তারপরও বিআরটিএ বা প্রশাসন এসব বাস চলাচল বন্ধে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।
সরেজমিনে নগরীর আর কে রোড এলাকায় বিআরটিসি বাস ডিপোতে গিয়ে দেখা গেছে, প্রধান ফটকে পাহারাদার দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে যাতে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কেউ ভেতরে ঢুকতে না পারে। ভেতরে ঢুকে দেখা গেলো- বিভিন্ন বাসের ইঞ্জিনসহ মূল্যবান যন্ত্রপাতি খোলা হচ্ছে।
তিনি জানান, রংপুর ডিপোতে একশ’ চারজন কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। ডিপোর অধীনে ২৪টি বাস রংপুর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করে। আর ১৮টি বাস প্রধান কার্যালয় থেকে লিজ নিয়ে বেসরকারি মালিকরা চালায়। তিনি স্বীকার করেন, সব বাসের ফিটনেস সার্টিফিকেট ছিল না। সম্প্রতি রংপুর বিআরটিএ অফিস থেকে ফিটনেস করানো হয়েছে। ম্যানেজার জানান, বাসগুলো আসলেই চলাচলের অযোগ্য। কোনটির ব্রেক ভালো নয়, টায়ারের অবস্থা ভালো না, ইঞ্জিনগুলো পুরাতন। তবে নতুন বাস আসছে জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন বাস আসলে এসব সমস্যা ঠিক হয়ে যাবে। এক প্রশ্নের উত্তরে ডিপোতে বাসের মূল্যবান মালামাল লোপাটের অভিযোগ ঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে মেডিক্যাল মোড়ে অবস্থিত বিআরটিসি কাউন্টারের দু’জন কর্মচারী স্বীকার করেন, বিআরটিসি বাসের কোনোটারই ফিটনেট নেই। সবগুলোই লক্কর-ঝক্কর। এ ব্যাপারে কয়েকজন বিআরটিসি বাস যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে আরও ভয়ঙ্কর তথ্য।
পঞ্চগড় যাওয়ার জন্য বাসে উঠেছেন সোলায়মান আলী নামে একজন চাকরিজীবী। তিনি বলেন, ‘একটি কারণে বিআরটিসি বাসে ওঠেন তিনি। সিটগুলো একটু প্রশস্ত, ভালো মতো বসা যায়। এই বাসগুলো ২৫ থেকে ৩০ বছরের পুরোনো। বেশির ভাগ দিন মাঝ রাস্তায় বাস বিকল হলে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়।’ একই কথা জানালেন সৈয়দপুরগামী যাত্রী আকলিমা আজিজ। তিনি বলেন, ‘বাসগুলো কোনোভাবেই চলাচলের উপযোগী না। তারপরও বাধ্য হয়ে যাতায়াত করতে হয়।’ বিআরটিসির এক ড্রাইভার নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস চালাই। বাসের ব্রেক ভালো না, টায়ারের অবস্থা খারাপ। ইঞ্জিনের অবস্থা বলা যায় না। তারপরও জীবিকার প্রয়োজনে বাস চালাই।’