বাংলা ট্রিবিউনকে আজিজুল বলেন, ‘গত চার-পাঁচ বছর ধরে কোরবানির ঈদে সাগরিকা বাজারে গরু নিয়ে আসি। এবারও ১২টি গরু নিয়ে শনিবার হাটে এসেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত একটি গরুও বিক্রি করতে পারিনি। বাজার এখনও জমে ওঠেনি। তাই ক্রেতা নেই। যারা বাজারে আসছেন তারা দামদর জিজ্ঞেস করে চলে যাচ্ছেন।’
শুধু আজিজুল নয়, তার মতো একই কথা জানিয়েছেন বাজারে আসা অন্য ব্যাপারীরাও।
দুটি গরু নিয়ে একই বাজারে এসেছেন আরেক ব্যাপারী তরিকুল ইসলাম। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘দুটি গরু নিয়ে বাজারে এসেছি। এখনও বিক্রি হয়নি। ছয় মাস আগে দুটি গরু কিনেছিলাম আড়াই লাখ টাকায়। এই ছয় মাস লালন-পালন করে বাজারে নিয়ে এসেছি।’ গরু দুটি লাখ টাকার কম বিক্রি করলে লোকসান হবে বলে জানিয়েছেন এই বিক্রেতা।
তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা গরুগুলো কোরবানির ঈদের পাঁচ-ছয় মাস আগে কিনে সেগুলো লালন-পালন করি। যেসব ব্যাপারীর কাছ থেকে আমরা গরু কিনি, এবার সেখানেই দাম বেশি। তাই এবার গরুর দাম একটু বেশি হবে।’
এবার চট্টগ্রাম নগরীতে তিনটি স্থায়ী পশুর হাটের পাশাপাশি আরও ছয়টি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দিয়েছে সিটি করপোরেশন। ছয়টি অস্থায়ী হাটের মধ্যে রয়েছে– স্টিল মিল পশুবাজার, পতেঙ্গা সিটি করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ পশুবাজার, কমল মহাজন হাট পশুবাজার, বাকলিয়ার কর্ণফুলী বাজার, সল্টগোলা রেলক্রসিং সংলগ্ন বাজার এবং পতেঙ্গার প্রজাপতি পার্কের দক্ষিণে টিকে গ্রুপের মাঠ। স্থায়ী তিন পশুর হাট হচ্ছে– সাগরিকা গরু বাজার, বিবিরহাট গরু বাজার ও পোস্তারপাড় ছাগল বাজার।
এই নয়টি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব বাজারে এখনও বেচাকেনা পুরোদমে শুরু হয়নি। ক্রেতা না থাকায় বাজারে অলস সময় পার করছেন ব্যাপারীরা। তারা বলেন, ‘গতবার মোটামুটি ভালো বেচাকেনা করেছি। সেই আশায় এবারও বাজারে গরু নিয়ে এসেছি। কিন্তু এখনও বাজারে বেচাকেনা শুরু হয়নি। গত কয়েকদিন অলস সময় পার করছি।’
বিবিরহাট গরু বাজারের ইজারাদার আরিফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শনিবার থেকে বেচাকেনা শুরু হলেও এখনও বাজার জমে ওঠেনি। বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপারীরা গরু নিয়ে বাজারে এসেছেন। আমরা তাদেরকে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা আর নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি প্রশাসনও আমাদেরকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে। বাজারে এখন ক্রেতা অনেক কম। আশা করছি শুক্রবার থেকে বেচাকেনা শুরু হবে।’
সাগরিকা গবাদিপশু ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. অলিউল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পশু সংগ্রহ করে ব্যাপারীরা বাজারে নিয়ে এসেছেন। কিন্তু বাজারে তেমন বেচাকেনা নেই। বৃহস্পতিবার থেকে গরু বিক্রি শুরু হলেও এখন পর্যন্ত ৩০ থেকে ৪০টি গরুর বেশি বেচাকেনা হয়নি। কোরবানির তিন থেকে চার দিন আগে গরু বিক্রি জমে উঠবে বলে তিনি জানান।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রেয়াজুল হক জানিয়েছেন, এবার চট্টগ্রামে কোরবানির জন্য সাত লাখ ২০ হাজার ৯৫৭টি গবাদিপশুর প্রয়োজন। এর মধ্যে ছয় লাখ ১০ হাজার ২১৯টি পশু স্থানীয় খামারে মজুত আছে। আরও প্রায় এক লাখ ১০ হাজার কোরবানির পশু দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগ্রহ করতে হবে বলে। তবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন এলাকায় এবার বিপুলসংখ্যক পশু রয়েছে। এসব পশুর একটি বড় অংশ চট্টগ্রামের বাজারে চলে আসবে। গতবারের চেয়ে এবার চট্টগ্রামে খামারির সংখ্যা বেড়েছে। তাই এবার চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর সংকট হবে না।’