এ ঘটনায় শিক্ষকদের অবহেলাকে দায়ী করে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা বিদ্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। এ সময় তারা পুড়িয়ে দেয় শিক্ষকদের ব্যবহৃত ছয়টি মোটরসাইকেল। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহত শিক্ষার্থী আজিম উদ্দিন (১৬) ওই উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের বেনীপুর গ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে।
নিহতের সহপাঠী ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকালে আজিম বিদ্যালয়ে আসার পরে ক্লাসরুমে অসুস্থ হয়ে পড়ে যায়। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি শিক্ষককে জানালেও তারা কোনও পদক্ষেপ নেননি। পরে তার মাথায় পানি ঢালাসহ নানা কিছু করেও কোনও উন্নতি না হয়নি। সহপাঠীরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিক্ষকদের কাছে মোটরসাইকেল চায়। এ সময় কোনও শিক্ষক তাদের মোটরসাইকেল না দিয়ে উল্টো তাদেরকে ভ্যানে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে শিক্ষার্থীরা দ্রুত আজিমকে একটি ভ্যানে করে বিরামপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য রওয়ানা হলে পথে সে মারা যায়।
নিহত আজিমের পরিবার জানায়, আজিম আগে থেকেই অসুস্থ ছিল। মাঝেমধ্যে তার এমন অবস্থা হলে ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ খাওয়ালে ভালো হয়। কিন্তু আজ শিক্ষকের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে।
কাটলা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, তার কাছে মোটরসাইকেল চাওয়ার জন্য কোনও শিক্ষার্থীই আসেনি। তবে তিনি খবর পেয়ে দ্রুত বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। পরে জানতে পারেন যে, শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে ভাঙচুর করেছে এবং শিক্ষকদের ব্যবহৃত ছয়টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছে।
বিরামপুর থানার (ওসি, তদন্ত) সোহেল রানা বলেন, ‘স্থানীয়দের মারফতে খবর পেয়ে ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসি। এর পরে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যদি এ মৃত্যুর বিষয়ে কারও কোনও অভিযোগ থাকে তাহলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’