সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহিন জানান, আক্রান্তদের মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৪৬ জন। চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন আরও ৫৬ জন। এছাড়া অন্যত্র রেফার করা হয়েছে আরও পাঁচজনকে। স্থানীয়ভাবে সাত জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে বলে শনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্তদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, কালিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কলারোয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অধিকাংশই ঢাকা থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরায় ফিরে এসেছেন। তবে সবাই শঙ্কামুক্ত।
কালিগঞ্জ উপজেলার নলতার শাহজাহান আলী জানান, নলতা বাজারে তিনি কাঁকড়ার ব্যবসা করেন। কয়েক মাসের মধ্যে জেলার বাইরে যাননি। গত ১ আগস্ট পুরো শরীরে ব্যথা, জ্বর ও কয়েকবার বমি হওয়ার পর সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি হলে পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ে। চিকিৎসা নিয়ে অনেকটা সুস্থ আছেন।
সাতক্ষীরা পৌরসভার কামালনগর এলাকার মোস্তফা নাইমুল ফারহা বলেন, ‘আমার ছোট ভাই শহরের ভূমি অফিসের পাশে গার্মেন্টস ব্যবসা করে। ঈদ উপলক্ষে মালামাল কিনতে ঢাকায় যায়। বাড়ি ফিরে অসুস্থ বোধ করলে পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরে পড়ে। এখন সদর হাসপাতালে ভর্তি আছে। তার গলা দিয়ে রক্ত পড়ছে। আমরা খুব চিন্তায় আছি।’
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘জেলায় প্রতিদিনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। স্থানীয়ভাবে অনেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। জ্বর, শরীর ব্যথা, বমি বমি ভাব দেখা দিলেই সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা করাতে হবে। ডেঙ্গু প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু হলে জ্বর, পেটে ব্যথা, মাথা ব্যথা, অনেকের প্রেসার কমে যাচ্ছে। এটি প্রতিরোধে মশার কামড় থেকে দূরে থাকতে হবে। মশা যাতে জন্মাতে না পারে সেজন্য বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার করতে হবে। পরিত্যক্ত জিনিসপত্র, বোতল, নারকেলের খোসা, টায়ারসহ অন্যান্য জিনিসপত্র পরিষ্কার রাখতে হবে।’ দিনে বা রাতে ঘুমানোর আগে অবশ্যই মশারি ব্যবহার করার পরামর্শ দেন তিনি।
সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন আক্রান্তদের পানি ও ডাব, শরবত, পেঁপে বেশি খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইতোমধ্যে শহর থেকে গ্রামের তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন প্রকার জনসচেতনতামূলক প্রচারাভিযান শুরু করা হয়েছে। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে ৬ নম্বর কক্ষ এবং জরুরি বিভাগে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে: ০১৭৩০৩২৪৮০২ নম্বরে কল করা যাবে।’
সাতক্ষীরার বাসিন্দা যারা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকেন তাদের পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সেখান থেকে না আসার পরামর্শ দিয়ে দিয়েছেন সিভিল সার্জন। যার যার কর্মস্থলে ঈদ উদযাপন করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।