গৃহবধূকে নির্যাতনের পর চুল কেটে জুতার মালা পরিয়ে গ্রাম ঘোরানোর অভিযোগ

রংপুররংপুরে গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ি ইউনিয়নের পুটিমারী গ্রামে মানিকা বেগম (৩৮) নামে এক গৃহবধূকে গাছের সঙ্গে বেঁধে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতনের পর ওই গৃহবধূর চুল কেটে গলায় জুতার মালা পরিয়ে পুরো গ্রাম ঘোরানো হয়েছে। গত বুধবার (৭ আগস্ট) বিকালে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। গঙ্গাচড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত সুশান্ত কুমার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ জানায়,  প্রায় দেড়মাস আগে মানিকা বেগমের দেবর আব্দুল মতিনের মেয়ে মৌসুমী বেগমের বিয়ে হয় রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীর এলাকার লিটন মিয়ার সঙ্গে। বিয়ের পর লিটন স্ত্রীকে গত ২১ জুলাই তাকে তালাক দেয়।  তালাকের ঘটনায় মানিকা বেগমের ইন্ধন রয়েছে এমন দাবি করে দুই পরিবারের মধ্যে কয়েকদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল। এরই জের ধরে বুধবার বিকালে আব্দুল মতিন, তার স্ত্রী, মেয়ে এবং তার ভাই আব্দুল মোতালেবসহ পরিবারের লোকজন একত্রিত হয়ে মানিকা বেগমকে ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে বেদম মারধর করে। একপর্যায়ে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে ভীষণ নির্যাতন করে মাথার চুল কেটে দেয়। পরে তারা মনিকা বেগমের গলায় জুতার মালা পরিয়ে গ্রামে ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়ায়। প্রকাশ্য দিনের বেলায় এমন অমানবিক ঘটনা ঘটলেও গ্রামের কোনও লোক তাদের নিবৃত করতে এগিয়ে আসেনি বলে মনিকা বেগম অভিযোগ করেন।

সন্ধ্যার পর স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম মানিকা বেগমকে উদ্ধার করে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে বিষয়টি গঙ্গাচড়া থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ এসে মনিকা বেগমকে উদ্ধার করে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন বলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহাতাম মোরশেদ জানান। 

নির্যাতনের শিকার মনিকা বেগম জানান, তাকে যে অপবাদে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে সে ঘটনার সঙ্গে তার কোনও সর্ম্পক ছিল না। তিনি বিষয়টি জানতেন না। তার পরেও তাকে পুরো ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়েছে। তিনি এতে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই মনিকা বেগমের জামাই মোকলেছ মিয়া বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ এজাহারভুক্ত আসামি আব্দুল মতিন ও আব্দুল মোতালেবকে গ্রেফতার করে। 

এদিকে বেতগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান লিপটন বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক। ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা পরস্পর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। তাই এ নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করতে চাই না।’

ওসি জানান,অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।