ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

বাস টার্মিনাল এলাকায় যাত্রীদের ভিড়ময়মনসিংহে ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো বাসযাত্রীদের জিম্মি করে মাত্রাতিরিক্ত বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একশ্রেণির পরিবহন সার্ভিসের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, ময়মনসিংহের পাটগুদাম ব্রহ্মপুত্র ব্রিজ মোড়ের আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল এলাকায় প্রকাশ্যে হাকডাক করে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হলেও এর কোনও প্রতিকার মিলছে না। বাধ্য হয়েই যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। ট্রাফিক পুলিশ বলছে, কেউ অভিযোগ করলে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

ময়মনসিংহ মহানগরীর পাটগুদাম ব্রহ্মপুত্র ব্রিজ মোড়ের বাস টার্মিনাল থেকে নেত্রকোনা, হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, শেরপুর, ভৈরব, কিশোরগঞ্জসহ আন্তঃজেলার বাস যাতায়াত করে থাকে। ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের জিম্মি করে এই টার্মিনালের সামনে পুলিশ প্রশাসনসহ মালিক ও শ্রমিক নেতাদের নাকের ডগায় এভাবে বাড়তি ভাড়া আদায়ের ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও হতবাক যাত্রীরা।

কেউ অভিযোগ করেনি তাই এ ব্যাপারে পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানিয়েছেন ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক (প্রশাসন) কাজী আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা বাস টার্মিনাল এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। এখন পর্যন্ত বাসের ভাড়া বেশি নেওয়ার বিষয়ে কোনও যাত্রী অভিযোগ করেননি।’ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।   

হালুয়াঘাটের যাত্রী কামাল হোসেন জানান, রাস্তার ওপর প্রকাশ্যে নেওয়া হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া। তিনি আরও বলেন, ‘ময়মনসিংহ থেকে হালুয়াঘাটের নির্ধারিত বাসভাড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা। অথচ ১৫০ টাকা ভাড়ার কথা বলে তোলা হচ্ছে যাত্রীদের।’ নেত্রকোনার যাত্রী কাকলী বেগম জানান, সারাবছর তারা ময়মনসিংহ থেকে নেত্রকোনায় ৬০ টাকা ভাড়ায় বাসে যান। ঈদকে সামনে রেখে ২০০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। একই এলাকার যাত্রী কফিল উদ্দিন জানান, নেত্রকোনার বাসে দাঁড়িয়ে গেলেও ১৫০ টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে।

বাস ভাড়া বেশি নেওয়ার কথা স্বীকার করে হালুয়াঘাটের শ্যামলী পরিবহনের চালক লিয়াকত আলী জানান, হালুয়াঘাট যাওয়ার সময় যাত্রী পাওয়া গেলেও ময়মনসিংহ ফিরতে হচ্ছে একেবারেই খালি। খরচ ওঠানোর জন্যই যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিদিন পুলিশের পাটগুদাম ব্রিজ মোড়ের ওয়াচ টাওয়ার, সাব কন্ট্রোল রুমসহ মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের মনিটরিং সেলের সামনে হাকডাক করে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হলেও অভিযোগ অস্বীকার করেন শ্রমিক নেতারা। জেলা মোটরযান শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক মজিবুর রহমান জানান, শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা সার্বক্ষণিক বাস টার্মিনালে অবস্থান করছে। কোনও পরিবহনের ভাড়া বেশি নেওয়ার বিষয়টি তাদের নজরে আসেনি।

মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের আলাদা বৈঠকে আসন্ন ঈদে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘ঈদ উপলক্ষে বাসের ভাড়া বেশি নেওয়া হবে না আরটিএ সভায় এ ধরনের কথা দিয়েছিলেন মালিক ও শ্রমিক নেতারা। সমস্যা সমাধানে এবং অতিরিক্ত ভাড়া বেশি নেওয়ার বিষয়টি বন্ধে পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান তিনি।