ছাত্রলীগ নেতাকে পেটালো পুলিশ, সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এসপি’র

পাঁচবিবি উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম

আসামি ধরার সময় জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলামকে পিটিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাকে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাম কবিরের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা জয়পুরহাট পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘যা হয়েছে, ঘটনাটি খুব দুঃখজনক।’

ছাত্রলীগ নেতাকে পেটানোর ব্যাপারে গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি। অথবা, পুরনো বিবাদ বা ক্ষোভের জের ধরেও এ ঘটনা ঘটতে পারে। ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা ডিবির এস আই আমিরুল এর আগে পাঁচবিবি উপজেলায় কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকালে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার উঁচনা মাদ্রাসা মাঠে আসামি ধরতে যায় এস আই আমিরুলের নেতৃত্বে পাঁচ জন গোয়েন্দা পুলিশ। সেখান থেকে আব্দুল মজিদ নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করেন তারা। এরপর মজিদের স্বজনরা সেখানে কান্নাকাটি শুরু করেন। ওই মাঠে ফুটবল খেলার জন্য গিয়েছিলেন জহুরুল। মাঠেই পুলিশ ও আসামির স্বজনরা কথা বলার সময় এগিয়ে যান তিনি। এরপর গোয়েন্দা পুলিশের দল তাকে নাম জিজ্ঞাসা করে। নাম বলতেই হেলমেট, বেল্ট ও হ্যান্ডকাফ দিয়ে গালে-মুখে আঘাত করে তারা। এতে জহুরুলের নিচের পাটি থেকে দাঁত আলাদা হয়ে যায়। পরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাইক্রোবাসে করে প্রায় এক কিলোমিটার দুরে হাটখোলায় যায় ডিবি পুলিশের দলটি। এ সময় গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তার মাধ্যমে ছাত্রলীগ নেতা জাকারিয়া হোসেন রাজার সুপারিশে জহুরুলকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়।

পরে স্থানীয়রা তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করান।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জহুরুল বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। পাশে থেকেই সব দেখছিলাম। এ সময় একজন পুলিশ সদস্য আমার নাম জিজ্ঞেস করেন। আমি নাম বলতেই মুখে আঘাত করেন। এরপর আমি কিছু বলার চেষ্টা করলেও সুযোগ পাইনি।’

জেলা সদর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ড. মুবিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘জহুরুলের দাঁতে আঘাত আছে। এক্স-রে করতে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট দেখার পর সব বোঝা যাবে।’

জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি জাকারিয়া হোসেন রাজা বলেন, ‘ডিবির ওসিকে ফোন দিয়ে আমি জহুরুলকে উদ্ধার করেছি। তার বিরুদ্ধে কোনও মামলা নাই। আমরা তাকে ভালো ছেলে হিসেবেই জানি।’

এদিকে, সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা আধুনিক হাসপাতালের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ৪ নম্বর কেবিনে ভর্তি থাকা আহত জহুরুল এবং তার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। পরে তারা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসে বক্তব্য নিতে যান। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি নিতে গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মমিনুল হক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাম কবিরের দোতলার অফিসে যান। এর কিছুক্ষণ পর পুলিশ সুপার নিচে গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শকের অফিস কক্ষে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে রাগারাগি করেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা কী শুরু করেছেন? ছোট্ট একটা ঘটনাকে এত পেঁচাচ্ছেন কী জন্য। কী এমন ঘটনা ঘটেছে, তাই দলবেঁধে আপনারা উঠেপড়ে লেগেছেন? আপনারা কে কোথায় মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে যাতায়াত করেন, সবই আমার জানা আছে। আমিও দেখবো কীভাবে আপনারা চলাফেরা করেন?’

এরমধ্যেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন জয়পুরহাট পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান। পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করলে তাকেও ধমক দিয়ে সঙ্গে করে ওপরের রুমে নিয়ে যান এসপি। এ ব্যাপারে পৌর মেয়র বলেন, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক।’

এই ঘটনার পর সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জয়পুরহাট প্রেস ক্লাব সভাপতি মোস্তাকিম ফাররোখের সভাপতিত্বে ক্লাবে বৈঠক করেছেন সাংবাদিকরা। এসপি মোহাম্মদ সালাম কবিরের সংবাদ বর্জন এবং আচরণের জন্য ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম ও ক্ষমা না চাইলে ৮ সেপ্টেম্বর প্রতিবাদী কর্মসূচির সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে।