নেশার টাকার জন্য ঘরের মধ্যে নিজের মাকে বেঁধে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে সোহানুর রহমান খোকন মণ্ডল (৩২)। রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকালে এই ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে এই তথ্য জানিয়েছেন বগুড়ার শেরপুর ও ধুনট সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান।
সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয়রা জানান, নেশার টাকা না পেয়ে উত্তেজিত হয়ে নিজের মায়ের মুখের মধ্যে কাপড় গুঁজে দেওয়ার পর ঘরের মেঝেতে ফেলে দেয় খোকন। এরপর শরীরের ওপর কম্বল বিছিয়ে মোটর সাইকেলের পেট্রল ছিটিয়ে ম্যাচ ঠুকে আগুন দেয়। মায়ের চিৎকার যাতে একই বাড়িতে থাকা বড় ভাইয়ের পরিবার ও প্রতিবেশীরা শুনতে না পান, সেজন্য ঘরের সাউন্ডবক্সে উচ্চ শব্দে মিউজিক বাজায় সে। প্রতিবেশীরা চিৎকার শুনতে না পেলেও টিনের ঘরের বেড়ার ফাঁক দিয়ে ধোঁয়া বের হতে দেখেন। তারা দগ্ধ খুকি বেগমকে (খোকনের মা) উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করেন। পথিমধ্যে গাবতলী উপজেলার পোড়াদহ গোলাবাড়ি এলাকায় তিনি সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে মারা যান।
ক্ষুব্ধ জনগণ খোকনকে পিটিয়ে আহত করে। পরে পুলিশ খোকনকে আটকের পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়ে দেয়।
বগুড়ার ধুনটের চিকাশী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রোকনুজ্জামান বিপ্লব জানান, নেশার টাকা না পেয়ে খোকন একাই তার মাকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। গ্রামবাসীরা খোকনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
বগুড়ার শেরপুর ও ধুনট সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান জানান, ছেলে খোকন মণ্ডলই নেশার টাকা না পেয়ে মা খুকি খাতুনকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। আলামত হিসেবে হাত-পা বাঁধার রশি, মুখে গুঁজিয়ে দেওয়া কাপড় ও পোড়া কম্বল সংগ্রহ করা হয়েছে। খোকন মণ্ডল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সেখান থেকে ছাড়া হলে তাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। হত্যার দায় স্বীকার না করলে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। খোকনের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় দুটি মাদকের মামলা রয়েছে।