আগামী ৫ অক্টোবর রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। দল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনে জাপার মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে এরশাদ পরিবারের মধ্যে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। গত ৩১ আগস্ট এরশাদের কুলখানিতে রওশন এরশাদ ও তার ছেলে সাদ এরশাদ রংপুরে আসেন। সেখানে সাদ এরশাদ বলেন, দল তাকে মনোনয়ন দিলে তিনি নির্বাচন করতে চান। এদিকে উপনির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য এরশাদের ছোট ভাই সাবেক এমপি প্রয়াত মোজাম্মেল হক লালুর একমাত্র ছেলে হোসেন মকবুল শাহারিয়ার আসিফ বেশ কিছু দিন ধরে নগরীতে শোডাউন ও নির্বাচনি এলাকায় গণসংযোগ করছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে জেলা সদরের পালিচড়া বাজারে ২০/২৫ জন জাপা নেতাকর্মী সাদ এরশাদের কুশপুত্তলিকা নিয়ে মিছিল বের করে তাকে মনোনয়ন না দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। একপর্যায়ে তারা সাদ এরশাদের কুশপুত্তলিকায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এ নিয়ে স্থানীয় জাপা নেতাকর্মীদের দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রংপুর সদর উপজেলা জাপার সদস্য সচিব ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাসুদার রহমান মিলন কুশপুত্তলিকা দাহ করার ঘটনায় এরশাদের ভাতিজা আসিফের লোকজনকে দায়ী করে বলেছে, ‘আসিফের সমর্থক মতিন, নুরন্নবীসহ ২০/২৫ জন সাদ এরশাদের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে।’
তবে এ ব্যাপারে আসিফ অভিযোগ অস্বীকার এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রংপুর-৩ আসনের জনগণ সাদ এরশাদকে কোনোভাবেই গ্রহণ করবে না। সে কারণে দলের ক্ষুব্ধ কর্মীরা কুশপুত্তলিকা দাহ করতে পারে। তাই বলে আমাকে কেন দায়ী করা হবে? রংপুরের জনগণ চায় রংপুর সদরের এই আসনটিতে যেহেতু আমার বড় আব্বা এরশাদ ৩০ বছর ধরে এমপি ছিলেন, তাই এখানে তার পরিবারের যারা রংপুরে দলের দুর্দিনে জনগণের সঙ্গে থাকেন তাদেরই মনোনয়ন দেওয়া হোক। তাই বলে উড়ে এসে জুড়ে বসে সাদ কেন মনোনয়ন চায়?’
রংপুর থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম জানান, ‘কুশপুত্তলিকা দাহের ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’