বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক থেকে পাঁচ মণ ইলিশ ছিনতাইয়ের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় দুটি পিকআপ জব্ধ করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলো: পিকআপ মালিক বিশ্বজিৎ সরকার, চালক তাপস সরকার ও সহযোগী মো. মনিরুজ্জামান। ঘটনার সঙ্গে জড়িত মুন্না মোল্লা ও রাশেদকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার উত্তর এর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান উপপুলিশ কমিশনার মোকতার হোসেন।
তিনি জানান, মাছ ছিনতাইয়ের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার বাদী জালাল পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর বন্দর থেকে দেড়লাখ টাকা মূল্যের পাঁচ মণ ইলিশ মাছ ক্রয় করেন। শ্যালক এলাহীকে সঙ্গে নিয়ে ১০ সেপ্টেম্বর ইলিশগুলো পিকআপে নিয়ে গোপালগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেন। ওই পিকআপ ভ্যানের চালক তাপস সরকার ১১ সেপ্টেম্বর ভোররাতের দিকে পিকআপটি বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানাধীন অমৃত গুড়া মশলার ফ্যাক্টরির সামনের থামায়। এসময় মোটরসাইকেলে করে মুন্না মোল্লা ও মনিরুজ্জামান সেখানে হাজির হন। বিশ্বজিৎ পাশের রাস্তার মোড়ে অবস্থান নেয়। পরে তারা ইলিশবহনকারী পিকআপটিকে চালক তাপসের সহায়তায় মহাসড়কের পাশের শাখা রোডে নিয়ে যায় এবং মৎস্য ব্যবসায়ী জালাল ও তার শ্যালককে পিকআপ থেকে নামিয়ে মারধর করে হত্যার হুমকি দেয়। এর পরপরই অন্য একটি পিকআপ এনে ইলিশ মাছগুলো সেটাতে তুলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে আসামিরা। এরপর চালক তাপস তার পিকআপ নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
১২ সেপ্টেম্বর বিষয়টি এয়ারপোর্ট থানাকে অবহিত করা হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ৩ জনকে গ্রেফতার এবং ছিনতাই হওয়া ৫ মণ ইলিশ উদ্ধার করা হয়।
উপপুলিশ কমিশনার আরও জানান, গ্রেফতার হওয়া আসামিরা আদালতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার নাম উল্লেখ করে জবানবন্দি দিয়েছে। পাশাপাশি আদালতের মাধ্যমে মাছগুলো ব্যবসায়ীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) আব্বাস উদ্দিন, সহকারী পুলিশ কমিশনার (এয়ারপোর্ট) নাসরিন জাহান ও এয়ারপোর্ট থানার ওসি এইচএম আব্দুর রহমান মুকুলসহ পুলিশ সদস্যরা।