কেন আবরারকে হত্যা, বুঝতে পারছেন না স্বজনরা

আবরার ফাহাদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতমবাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের বাড়ি শোকে স্তব্ধ। কেন আবরারকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না পরিবারের সদস্যরা। কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কের বাড়িতে ক্ষণে ক্ষণে আহাজারির মধ্যে সবাই এই হত্যাকাণ্ডের কারণ জানতে চাচ্ছেন।    

সোমবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে আবরারের মা রোকেয়া খাতুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার ছেলের কোনও শত্রু ছিল না। আমাদের পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সমর্থক। এরপরও আমার ছেলেকে নাকি শিবির বলা হয়েছে। কেন তাকে হত্যা করা হলো? আমার ছেলের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’আবরার ফাহাদ

রোকেয়া খাতুন আরও বলেন, ‘রবিবার সকালেও এই বাসায় আমি তাকে নিজে ঘুম থেকে ডেকে তুলি। সে ঢাকায় রওনা দেয়। মাঝে তিন থেকে চারবার ছেলের সঙ্গে ফোনে আমার কথা হয়। বিকাল ৫টায় হলে পৌঁছে ছেলে আমাকে ফোন দেয়। এরপর আর কথা হয়নি। রাতে অনেকবার ফোন দিয়েছিলাম। ও আর ফোন ধরেনি।’কুষ্টিয়ায় আবরার ফাহাদের বাড়িতে স্বজনদের আহাজারি

আবরারের সহপাঠীদের দাবি, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক চুক্তি নিয়ে দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসের কারণেই আবরারকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে তারা বুয়েট প্রশাসনকে আলটিমেটাম দিয়েছেন। তবে সোমবার বিকাল পর্যন্ত বুয়েট প্রশাসন বা পুলিশের পক্ষ থেকে হত্যার কারণ সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি।  ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন জানান, তদন্ত করে কারণ জানা যাবে।  

আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফায়াজ বলেন, ‘ফোন না ধরায় আমি ফেসবুক মেসেঞ্জারে ভাইয়াকে নক করি। ভাইয়া সে সময়ও ফেসবুকে অ্যাকটিভ ছিল। তবে সাড়া দেয়নি।’

আবরারের চাচা মিজানুর রহমান বলেন, ‘আবরার ফাহাদ শিবিরের কর্মী বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এটা বানোয়াট। আবরার একজন উদারমনা ও প্রগতিশীল ছেলে। আমরা গোটা পরিবার আওয়ামী লীগের সমর্থক। তবে আবরার তাবলিগে যেত। বুয়েটে ভর্তির পরও দুই তিনবার সে তাবলিগে গিয়েছিল।’

আবরারের বন্ধু আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ‘আবরার অনেক ভালো একজন ছাত্র ছিল। সে কোনও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না।’কুষ্টিয়ায় আবরার ফাহাদের বাড়ি

আবরার ফাহাদ (রাব্বি) বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। রবিবার দিনগত রাত ৩টার দিকে ওই হলের নিচতলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

আবরারের বাবা বরকতুল্লাহ একটি এনজিও সংস্থায় কর্মরত আছেন। মা রোকেয়া খাতুন একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুলে শিক্ষকতা করেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে আবরার ফাহাদ বড়। ছোট ভাই আবরার ফায়াজ ঢাকা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সেও ঢাকা কলেজের হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করে। বুয়েটের শেরেবাংলা হলের কাছেই তার হোস্টেল। কুষ্টিয়ার পিটিআই সড়কে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের বাসার পাশেই তাদের বাড়ি। আবরারের গ্রামের বাড়ি কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে।

আরও পড়ুন... 

হলের করিডরে আবরারের নিঃশব্দ আহাজারি! (ফটোস্টোরি)

‘ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমার ভাইকে পিটিয়ে হত্যা করেছে’

আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ