জানা গেছে, রেনিটিডিন জাতীয় সবগুলো ট্যাবলেটে ক্যানসার তৈরি করতে পারে এমন উপাদান পাওয়ায় ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর দেশের বাজারে এ ওষুধের কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন ও বিক্রি সাময়িক নিষিদ্ধ করেছে। এরপরও ওই হাসপাতালে রোগীদের মাঝে তা সরবরাহ করা হয়। এ অবস্থায় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এটিএম নূরুজ্জামান সরবরাহ করা রেনিটিডিন ব্যবহার ও বিতরণ সম্পর্কে সতর্ক করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। এ ট্যাবলেট ভারত থেকে আমদানি করা কাঁচামাল দিয়ে তৈরি কিনা তা জানতে ইডিসিএল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের কর্মরত সবাইকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরবরাহ করা রেনিটিডিন ওষুধ কোয়ারেন্টাইন করে রাখার নির্দেশ দেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চিঠির জবাবে ইডিসিএলের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন, ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে চাহিদা মোতাবেক রেনিটিডিন ১৫০ গ্রাম ট্যাবলেট সরবরাহ করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি বিবেচনা করে এ ট্যাবলেট যদি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে মজুত থাকে তবে তা ব্যবহার না করে ১০ দিনের মধ্যে ইডিসিএল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
বগুড়া জেলা ড্রাগ সুপার আহসান হাবীব জানিয়েছেন, ইডিসিএল কর্তৃপক্ষ ভারতের সারাকা কোম্পানি লিমিটেডের কাঁচামাল ব্যবহার করতো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইডিসিএলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, তারা জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ভারতের সারাকা কোম্পানির কাঁচামাল দিয়ে রেনিটিডিন উৎপাদন করেছেন। এখন তারা উৎপাদন বন্ধ রেখেছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এটিএম নুরুজ্জামান জানান, ইডিসিএল কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে, তারা এসএমএস লাইফ সাইন ল্যাবরেটরির কাঁচামাল ব্যবহার করেছে। তবে এখন তারা রেনিটিডিন উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। সিদ্ধান্ত হলে আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে ইডিসিএল কর্তৃপক্ষ পুনরায় রেনিটিডিন উৎপাদন শুরু করতে পারে। মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে তাদের তৈরি অন্য ব্যাচের রেনিটিডিন থাকতে পারে বলে জানিয়েছে, বগুড়া ইডিসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এখন হাসপাতালে ১৯.০৭.০৪৫ ব্যাচের ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে কোন ব্যাচে কী ধরনের কাঁচামাল ব্যবহার করা হয়েছে, তার কোনও উত্তর দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।