ফেনীতে আওয়ামী লীগ নেতার হাতে মার খাওয়ার পর অপমান সহ্য করতে না পেরে আবু আহাম্মদ (৫০) নামের একজন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। এই ঘটনায় মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নিহতের স্ত্রী পরশুরাম মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ।
নিহতের স্ত্রীর রহিমা আক্তার জানান, সোমবার (৪ নভেম্বর ) রাতে ধানক্ষেতে ওষুধ দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহম্মদ তার স্বামীকে অফিসে ডেকে নিয়ে স্থানীয় বটতলী বাজারে প্রকাশ্যে মারধর করেন। একপর্যায়ে আবু আহমেদ সেখান থেকে পালিয়ে যান।
রহিমা আক্তারের অভিযোগ, এরপর আওয়ামী লীগ নেতা ফিরোজ মোবাইল ফোনে কল দিয়ে তার স্বামীকে অফিসে পাঠানোর জন্য তাকে হুমকি দেন। জবাবে স্বামী বাড়িতে নেই জানালে তিনি লোকজন পাঠিয়ে স্বামীকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন। রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ফিরোজ তার মোবাইলে ১০-১২ বার ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা ফিরোজ আহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘আবু আহাম্মদের স্ত্রীকে রাতে মোবাইল করে সকালে দেখা করতে বলা হয়েছিল। তাকে (নিহত কৃষককে) নিজের জমিতে ওষুধ দিতে বলা হলে, সে অন্য একজনের ক্ষেতে ওষুধ দেওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসা করতে ডাকা হয়েছিল।’
পরশুরাম মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাত ১০টার দিকে আব আহ্ম্মদের লাশ বাড়ির পেছনে একটি গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। এরপরই স্থানীয়রা পরশুরাম থানা পুলিশকে খবর দেয়। নিহতের লাশ উদ্বার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।’ এই ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।